বাড়ির আঙিনা কাজে লাগাতে বললেন মেয়র লিটন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সিট কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, সবুজ নগরী গড়তে ও পরিবেশে কার্বনের মাত্রা কমাতে সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। নিজ বাড়ির আঙিনাকে কাজে লাগাতে হবে। আঙিনায় জায়গা না থাকলে বাড়ির ছাদে বা বারান্দাকে কাজে লাগানো যেতে পারে। এসব জায়গায় আম, পেয়ারা, ফুল-ফল সহ ভেষজ বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। আমি নিজে বাড়ির ছাদে বৃক্ষ রোপণ করেছি। ছাদকৃষি বা ছাদবাগান পরিচর্যা নিজেকে সুস্থ ও প্রফুল্ল রাখাতে সহায়তা করে।
নগরে খাদ্য নিরাপত্তা ও নগর কৃষির সম্ভাবনা শীর্ষক বিভাগীয় পরামর্শ সভায় এসব কথা বলেন মেয়র লিটন। মঙ্গলবার রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, এ ধরনের বাগান প্রতিটি বাড়িতে গড়ে উঠলে তা নগর কৃষিতে রূপ নিবে। আর নগরকৃষি শহরের তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সহায়তা করবে। ছাদে গাছ লাগালে বাড়ির তাপমাত্রা সহনীয় থাকে। এসির অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতি করে, পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, এর থেকে নির্গত গ্যাস প্রকৃতিতে কার্বণের মাত্রা বৃদ্ধি করে।
নগরকৃষির ওপর জোড় দিয়ে মেয়র বলেন, বাজারে হাইব্রিড সবজি ও ফলের উপস্থিতি বাড়ছে। নগরকৃষি স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর সবজি ও ফল উৎপাদনে সহায়ক হবে। নগরবাসী নিজ নিজ বাড়ির আঙ্গিনা সবুজায়ন করতে সম্ভব হলে আগামীতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ওইসব বাড়ির ক্ষেত্রে হোল্ডিং ট্যাক্স কমানোর পরিকল্পনা নেয়ার কথা ভেবে দেখবে। নগরকৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর এমকে নোমান। তিনি বলেন, মানুষ সুস্থ থাকতে কৃষিকাজ ও বাগান পরিচর্যাকে বেছে নিচ্ছে। দেশের এসডিজি বাস্তবায়নের টেকসই উন্নয়নে জোড় দেয়া হচ্ছে। এলক্ষে সাসটেইনেবল সিটি প্রয়োজন, যার জন্য শহরে সবুজায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। রাজশাহী মহানগরীতে সবুজায়নের ক্ষেত্রে পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ তীরকে কাজে লাগাতে হবে। এতে করে নগরকে সবুজায়নের পাশাপাশি নগরীতে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠবে এবং এই নগরীর ক্লিন এয়ার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বাড়ির আঙিনা বা বাড়ির ছাদ ও বারান্দা ফেলে না রেখে এসব স্থানে সবুজায়ন সৃষ্টি করতে হবে।
একটা সময় আমরা ছাদে বা বারান্দায় শুধুমাত্র ফুল গাছ রোপন করতাম। এখন সেই ধারণা পাল্টেছে। এখন এসব স্থানে ফুলের পাশাপাশি সবজি, ফল ও ভেষজ উদ্ভিদ রোপন করা হচ্ছে। এধরণের বাগান থেকে শহরের একটি পরিবারের ফল ও সবজির চাহিদা পুরণ সম্ভব। সেই সাথে সম্মিলিত ভাবে সবাই এগিয়ে আসলে তা পরিবেশের জন্যও উপকারে আসবে।
সাংবাদিক রাশেদ রিপনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড: দীপকেন্দ্র নাথ, প্রবীণ সাংবাদিক আহমেদ শফি উদ্দিন, নারীনেত্রী কল্পনা সাহা, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাল। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৮, ২০২১ | সময়: ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ