Daily Sunshine

রাকসু নির্বাচন নিয়ে শীঘ্রই সংলাপে বসা হবে:এম আব্দুস সোবহান

ডাকসু নির্বাচনের বিষয়টি সম্প্রতি সামনে আসায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের জোর দাবি উঠেছে। ক্যাম্পাসের ছাত্রসংগঠনগুলোসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা অতি সত্ত্বর রাকসু নির্বাচন চাইছেন। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাবি উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই রাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসা হবে। রবিবার সকালে রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা জানান উপাচার্য।

এসময় উপাচার্য বলেন, আমি চাই ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই করুক। তৎকালীন পাকিস্তান আমল থেকেই এটা চর্চিত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রদের সংগঠনগুলো বন্ধ থাকার ফলে প্রকৃত অর্থে ছাত্র রাজনীতির গুণগত মান হ্রাস পেয়েছে। সকল ছাত্রের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের একটা আলাদা শক্তি থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ তারা দেখবে; এটা তাদের প্রতিষ্ঠান। তা কিন্তু হয়ে আসছে না।

উপাচার্য আরও বলেন, আমি বার বার বলেছি, ছাত্র সংগঠনগুলো চাইলে আমি নির্বাচন দিব। এর আগে যখন আমি দায়িত্ব পালন করেছি, তখনও তারা চায়নি বলেই আমি নির্বাচন দিতে পারিনি। এখন দেখা গেল, আমি নির্বাচনের তারিখ দিলাম, কিন্তু তারা আসলো না; একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলো। এজন্য সকল ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মধ্যে দিয়ে, তারা সত্যিকার ভাবে মন থেকে নির্বাচন চায় কি না সেটা নিশ্চিত হয়েই রাকসু নির্বাচন দেওয়া হবে।

রাকসু নির্বাচন না চাওয়ার কারণ হিসেবে অধ্যাপক সোবহান উল্লেখ করেন, প্রত্যেক সংগঠন মনে করে, নির্বাচন হলে একটা সংগঠন হয়ে যাবে। সব ছাত্রের প্রতিনিধিত্ব করবে রাকসু প্রতিনিধিরা। তারা মূলত নিজেদের স্বার্থের কথা ভেবেই মন থেকে রাকসু নির্বাচন চায় না। তবে কিছু ছোট ছোট সংগঠন আছে, কেবল তারাই রাকসু নির্বাচন চায়।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৬-৫৭ মেয়াদে প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৯-৯০ মেয়াদে। এরপর দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে অচল থাকা রাকসু সচলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্রজোট, ছাত্রলীগসহ অন্য ছাত্রসংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।

রাকসু সচলের দাবিতে ২০১৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রাকসু আন্দোলন মঞ্চ গড়ে ওঠে। ওইদিন রাকসুর দাবিতে শপথ গ্রহণ, শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলন, ১৫ ডিসেম্বর থেকে চার দিনব্যাপী গণস্বাক্ষর, ১৯ ডিসেম্বর উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি, ২৩ ডিসেম্বর বিতর্ক ও মুক্ত আলোচনা, ৩১ ডিসেম্বর বিক্ষোভ সংহতি সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল রাকসু নির্বাচনের দাবিতে বুলেটিন প্রকাশ করে রাকসু আন্দোলন মঞ্চ।

রাকসু নির্বাচনকে ঘিরে রাবি উপাচার্যের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সংগঠক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, ২০১৭ থেকে আমরা রাকসুর দাবিতে বিভিন্ন্ কর্মসূচি পালন করে আসছি। উপাচার্য সব ছাত্র সংগঠনকে ডেকে তাদের মতামত জানতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়ে জানানো দরকার, আমরা রাকসু নির্বাচন দেব, আপনারা প্রস্তুতি নেন।

রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, রাকসু নির্বাচন আমাদের প্রাণের দাবি। রাকসুর মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব এসে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুক আমরা তা চাই। আমরা রাকসু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিশ্চিত করা জরুরী যেন রাকসু নির্বাচনে সকল ছাত্রসংগঠন অংশগ্রহণ করতে পারে। এছাড়াও হলে থেকে নির্বাচনের স্বাভাবিক কাজ করারও পরিবেশটাও বজায় রাখতে হবে।

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের আহ্বায়ক মহব্বত হোসেন মিলন বলেন, আমরা রাকসু নির্বাচন নিয়ে সংলাপের আশ্বাস চাই না। আমরা চাই সংলাপের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হোক।

জানুয়ারি ১৩
১৫:৫৬ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

বাবুর্চি থেকে হোটেল মালিক আফজাল

বাবুর্চি থেকে হোটেল  মালিক আফজাল

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: ছিলেন বাবুর্চি এখন হোটেল মালিক। ৯০’ এর দশকে হোটেলের বয় হিসাবে যাত্রা শুরু এই যুবকের। আজ তিনি নিজেই একটি হোটেল পরিচালনা করছে। সুদীর্ঘ এই পেশাদার জীবনে অনেক পেয়েছেন। পেয়েছেন অর্থ, খ্যাতি, সম্মান ও সর্বোপরি সবার ভালোবাসা। এ ছাড়া বাগমারার সকল হোটেল কর্মচারিরা তাকে নেতাও বানিয়েছে। তিনি

বিস্তারিত




এক নজরে

চাকরি

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সানশাইন ডেস্ক: সদ্য কার্যকর হওয়া সরকারি চাকরি আইনের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাতটি ধারা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে স্পিকার ও ছয় সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী

বিস্তারিত