Daily Sunshine

বিদেশ ফেরত হাজারো, কোয়ারেন্টিনে ডজন!

Share

সানশাইন ডেস্ক: বিশ্বে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার পর বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন হাজারো প্রবাসী। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন বা ঘরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে দেশের বিভিন্ন জেলায় হাজারেরও বেশি প্রবাসী ফিরে এসেছেন। তবে তাদের মধ্যে খুব কমই রয়েছে হোম কোয়ারেন্টিনে। অনেক জায়গায় এ সংখ্যা ডজনেরও কম। এতে করে স্থানীয় পর্যায়ে করোনার ভয়াবহ বিস্তার ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)তথ্যানুযায়ী এখন পর্যন্ত দেশে আক্রান্তদের সবাই বিদেশ থেকে আসা আত্মীয়ের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, জেলায় বিদেশফেরতের সংখ্যা ৯ শতাধিক। তবে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন মাত্র ৯ জন। অন্যদের বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে কোনও তথ্য নেই। গত ১ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত এই প্রবাসী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রবেশ করেন। বৃহস্পতিবার পঞ্চগড়ে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জরুরি বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। বিদেশফেরতদের শনাক্ত করতে তালিকা করতে প্রতি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, গত ১ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত দেশের বাইরে থেকে প্রায় ৯০০ প্রবাসী দেশে ফিরেছেন।
রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য মতে গত ১ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২৪৩ জন পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে আসলেও তাদের মধ্যে মাত্র ৯ জন কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। বাকি ২৩৪ জন নিজেদের তথ্য গোপন করে অবস্থান করছেন। তাদের শনাক্ত করতে জেলায় কর্মরত সবগুলো গোয়েন্দাসংস্থা একযোগে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুফিউল্লাহ। তিনি বলেন, এরা সবাই রাঙামাটি এসেছেন কিনা, আসলে কোথায় আছে, সেই তথ্য সংগ্রহ করছি আমরা। ইতোমধ্যে বিদেশফেরতদের তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, জেলায় বিদেশফেরতের সংখ্যা ১২শ’। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন মাত্র ২৭ জন। পাশাপাশি ১৪ দিনের বিশেষ মেয়াদ শেষে রিলিজ পেয়েছেন দুই জন। বৃহস্পতিবার বিকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরামুল ইসলাম এবং সিভিল সার্জন ডাক্তার মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরামুল ইসলাম জানান, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তথ্যমতে জেলায় বিভিন্ন দেশ থেকে এখন পর্যন্ত ১২শ’ মানুষ ফেরত এসেছেন। এদিকে সিভিল সার্জন চিকিৎসক মিজানুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নাটোরে হোম কোয়ারেন্টিনে অবস্থান করছেন ২৭ জন আর বিশেষ মেয়াদ শেষে রিলিজ পেয়েছেন ২ জন।
খুলনা প্রতিনিধি জানান, গত দুই সপ্তাহে জেলায় দুই হাজার ৫৪৬ জন বিদেশ থেকে ফিরেছেন। কিন্তু মাত্র ৩০ জন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। বাকি দুই হাজার ৫১৬ জনের খোঁজ মিলছে না। এ অবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে ভয়াবহভাবে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, গত ১ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত চীন, ইতালি, ভারত, সিঙ্গাপুর, ওমান, সৌদি আরব ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এই প্রবাসীরা দেশে ফেরেন। খুলনা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে জেলা টাস্কফোর্সের বিশেষ জরুরি সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশ এ তথ্য জানায়। পুলিশ জানায়, ইমিগ্রেশনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে চলে গেছেন। খুলনা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, বিদেশফেরতদের তথ্য সংগ্রহ ও বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখতে প্রশাসনকে ভূমিকা নিতে হবে।
ভোলা প্রতিনিধি জানান, জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক জানিয়েছেন কাগজপত্রে গত দু’সপ্তাহে এক হাজার ৪৩০ জন বাসিন্দা দেশে ফিরেছেন। জেলায় এখন পর্যন্ত ১৭৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘোরাফেরার অভিযোগে জেলায় ছয় প্রবাসীকে ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভোলার জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম ছিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আইন অমান্য করায় গত ২৪ ঘণ্টায় ছয় জনকে জরিমানা করা হয়েছে। প্রবাসীরা ওমান, ইতালি, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, ভারত, মালয়েশিয়া, আবুধাবি থেকে ফেরত এসেছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, জেলায় ১৪০০ জন প্রবাসী বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসলেও হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৮৭০ জন। শুক্রবার দুপুরে জেলার সিভিলে সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ১ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত তারা বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত এসেছেন।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন দুই হাজার ৬৯৮ জন, আর গত ২১ জানুয়ারি থেকে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন মোট ৯ হাজার ১৩ জন।
ওয়ার্ল্ড মিটারের তথ্যানুযায়ী এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১৮ জন। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন তিন জন। অন্যদিকে বিশ্বে এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৪৫ হাজার ৯২২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ১০ হাজার ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছেন ৮৮ হাজার ৪৬৫ জন।
অন্যদিকে সরাকরি হিসাবমতে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭, আইসোলেশনে আছেন ১৬ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৩। এর আগে প্রথম ইতালি থেকে আসা দুই পুরুষ এবং দেশে থাকা তাদের একজনের এক নারী আত্মীয় করোনায় আক্রান্ত হন। তারা তিন জনই চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

মার্চ ২১
০৫:৩৬ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

ডাবেই সচল বাচ্চুর জীবিকার চাকা

ডাবেই সচল বাচ্চুর জীবিকার চাকা

রোজিনা সুলতানা রোজি : সকাল থেকে রাত অবধি ডাবের সঙ্গেই সচল তার জীবিকার চাকা। প্রায় গত ৮ বছরের বেশী সময় ধরে সড়কের পাশে ফুটপাতে ডাব বিক্রি করে এক সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার ভালোই চলছে। ক’দিন আগেও প্রতিদিন ডাব বিক্রি করে প্রতিদিন ৬ থেকে সাতশ টাকা আয় হয়েছে তার।

বিস্তারিত




এক নজরে

চাকরি

প্রিমিয়ার ব্যাংকের সেই ফয়সালকে রিমান্ডে চায় দুদক

প্রিমিয়ার ব্যাংকের সেই ফয়সালকে রিমান্ডে চায় দুদক

স্টাফ রিপোর্টার : তিন কোটি ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের রাজশাহী শাখার কর্মকর্তা এফএম শামসুল ইসলাম ফয়সালকে সাত দিনের রিমান্ডে চায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতে তার এই রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আগামী ১ মার্চ রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি এফএম শামসুল ইসলাম

বিস্তারিত