Daily Sunshine

নগর আ’লীগের সভাপতি হতে চাননি ফারুক চৌধুরী

Share

গুজব ছড়ানো হচ্ছে
আসাদুজ্জামান নূর : আসন্ন ১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। ইতোমধ্যে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, এবারের সম্মেলনে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ সভাপতি হতে চান রাজশাহী-১ (তানোর-গাদাগাড়ী) আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী। এসকল খবরের সত্যতা ও অন্যান্য বিষয়ে গতকাল দৈনিক সানশাইনের মুখোমুখি হন সাংসদ ফারুক চৌধুরী।
ফারুক চৌধুরী জানান, তিনি কখনোই নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে চান নি। এই ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে বিভিন্ন দুঃষ্কৃতিকারীরা। তিনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে চান ওমর ফারুক চৌধুরী- এই খবরের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এজন্য করছি যে, আমি নিজে মাননীয় সভানেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বলে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে আর সভাপতিত্ব করতে চাই নাই। সুতরাং স্বাভাবিকভাবে ধরে নেয়া যেতে পারে, আমি নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে চাই না বা চাইব না। মহানগরের চায়তে জেলা অন্তত পাঁচগুন বড় একটা সংগঠন, আমি সেই সংগঠন ছেড়ে এসেছি। তাহলে এখানে আমি নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি কেন হতে চাইব?
তাহলে গণমাধ্যমে কেন এমন খবর চাউর হলো প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করেন যে, আপনার নাম শোনা যাচ্ছে, আপনি কি সভাপতি (নগর আ’লীগ) হতে চান? আমি বিনয়ের সাথে বলেছি, আমি হতে চাই না। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা বললে আমি দায়িত্ব নিতে পারি। কিন্ত আমি কখনোই নগর আ’লীগের সভাপতি হতে চাই না। বলেছি কারন, নেত্রী বললে তাঁকে তো সম্মান করতেই হবে। যার প্রেক্ষিতে কথাটা বলা। এর বেশি কিছু না।
জানতে চাওয়া হয়েছিল, এধরনের নেতিবাচক খবর কেন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে? জবাবে তিনবারের এই সংসদ সদস্য বলেন, আমি ফারুক চৌধুরী কোন সময় বালুর ঘাট খাই না, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল করি না, স্মাগলিংয়ের সাথে জড়িত না। খারাপ বা অন্যায় কাজ কোনদিন করি নাই। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভাঙিয়ে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করিনা। কিন্তু অনেক নেতৃত্বেরই এ দোষ আছে, যেটি আমরা জানি। ফলে তারাই ভীত হয়ে সবসময় আমার নামে বাজে খবর করাতে ও প্রচারে ব্যস্ত থাকে। তারই প্রতিফলন পত্রিকার খবরে ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কারা এই কাজটি করছে বলে মনে করছেন জিজ্ঞেস করলে ফারুক চৌধুরী বলেন, আমি পত্রিকার সম্পাদকের সাথে কথা বলেছি। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন- এই নিউজ কেন হবে? তারমানে উনার অজান্তেই ঐখানে দুর্বৃত্তদের হাত আছে। কারা এই দুর্বৃত্ত আমি বলতে পারব না। তবে দুর্বৃত্তরা প্রচন্ড শক্তিশালী। যেরকম তারা অন্য মানুষদেরকে দোষারোপ করে নিজেদের দুর্বৃত্তায়নের কাজটা করে যায়, অনেকেই বুঝতে পারে না। সেইরকম শক্তিশালী।
তিনি আরও বলেন, আমি তাদের (দুর্বৃত্তদের) প্রতি বিনীত অনুরোধ করব যে, আপনারা এই জাতীয় চরিত্র ছেড়ে দিন। যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিক্রি করে উপকারভোগী হতে চান, যদি আওয়ামী লীগকে বিক্রি করে হতে চান, তাহলে সামনের দিনে আপনাকে আমরা রুখে দেব। আপনি যেই হন! এটা আর করতে দেব না। আমাদের সাথে আর এভাবে লাগবেন না। আপনাদের কাছে করজোড়ে নিবেদন করলাম।
অন্যরা কেন খোঁচায় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা ভয় করে এটা ভেবে যে, আমরা একটু কালিমামুক্ত। আমাদের গায়ে দাগ নেই। সুতরাং জননেত্রী শেখ হাসিনা যেকোন সময় আমাদেরকে যেকোন জায়গাতে ব্যবহার করতে পারেন। তারা সেই ভয় করে। মহানগরের কাউন্সিল না আসলে এই সংবাদটা হতো না। এই জাতীয় আজে বাজে খবর হয় বলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম, মাননীয় নেত্রী, আমি আর এই দায়িত্ব নিতে পারব না। এই দায়িত্ব থেকে আমাকে দয়া করে অব্যাহতি দেন। আমি আর পারছি না। কারন, আমরা এই জাতীয় নোংরা মানসিকতার মধ্যে মানুষ হই নাই। আমাদের পক্ষে এসব সম্ভব না। নিজে পদের লোভ ছেড়ে আসলেও দুর্বৃত্তরা তাঁকে ছাড়ছে না বলে মন্তব্য করেন জেলা আওয়ামী লীগের এই সাবেক সভাপতি।
চক্রান্তকারীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, এই সমস্ত চক্রান্ত যারা করছে, তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই যে, কার কতখানি যোগ্যতা আছে, তা প্রকাশ্যে সামনাসামনি এসে চ্যালেঞ্জ করা হোক। কার কত অভিযোগ, কে কত ভাল, কার কি আছে, কার কি নাই সেগুলো সকলের সামনে উন্মুক্ত হোক। আমরা সেদিন দেখব।
সাংসদ ফারুক চৌধুরী হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা মুখ খুললে টেকা মুশকিল হয়ে যাবে। সবার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ফারুক চৌধুরীর মুখ বন্ধ হবে না। একবারে পরিষ্কার বলে দিলাম। কারন ফারুক চৌধুরী কোন কিছুতে ভাগ খায় না। সেজন্য ফারুক চৌধুরীর মুখ বন্ধ হবে না। এরপরে আবারও যদি এরকম কিছু হয়, তাহলে আমি সমস্ত কিছু জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে লিখিতভাবে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করে দেব। কার ঝোলাতে কি আছে? কাদের একটা সাইকেল ছিল না, এখন গাড়ি হয়ে গেছে, বাড়ি হয়ে গেছে, কত টাকা ইনকাম, কে কতটাকা ট্যাক্স দেয়, কে কত কালো টাকা সাদা করেছে, সব বলে দেব।
বাংলাদেশ সরকারের সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, আমি কোথায় ক্যাম্পেইন করেছি যে, আমি সভাপতি হতে চাই। না আমি কেন্দ্রে কারও কাছে গিয়ে প্রকাশ করেছি যে, মহানগরের সভাপতি হবো। ওরাই খোঁচায়, ওরাই ভয় পায়, ওরাই খবর করে। প্রকাশিত সংবাদ ও চাউর হওয়া খবরের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ, আমাকে শান্তিতে থাকতে দেয়া উত্তম।

ফেব্রুয়ারি ১৮
০৪:০৮ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

ডাবেই সচল বাচ্চুর জীবিকার চাকা

ডাবেই সচল বাচ্চুর জীবিকার চাকা

রোজিনা সুলতানা রোজি : সকাল থেকে রাত অবধি ডাবের সঙ্গেই সচল তার জীবিকার চাকা। প্রায় গত ৮ বছরের বেশী সময় ধরে সড়কের পাশে ফুটপাতে ডাব বিক্রি করে এক সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার ভালোই চলছে। ক’দিন আগেও প্রতিদিন ডাব বিক্রি করে প্রতিদিন ৬ থেকে সাতশ টাকা আয় হয়েছে তার।

বিস্তারিত




এক নজরে

চাকরি

প্রিমিয়ার ব্যাংকের সেই ফয়সালকে রিমান্ডে চায় দুদক

প্রিমিয়ার ব্যাংকের সেই ফয়সালকে রিমান্ডে চায় দুদক

স্টাফ রিপোর্টার : তিন কোটি ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের রাজশাহী শাখার কর্মকর্তা এফএম শামসুল ইসলাম ফয়সালকে সাত দিনের রিমান্ডে চায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতে তার এই রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আগামী ১ মার্চ রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি এফএম শামসুল ইসলাম

বিস্তারিত