Daily Sunshine

বাঘায় নাজমুল হত্যা মামলায় আসামী ২৯, গ্রেপ্তার ৬

Share

প্রতিবাদে শিক্ষার্থীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: রাজশাহীর বাঘায় যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ করায় স্কুল ছাত্রীর মামা নাজমুল হককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা এবং শিক্ষক পিতা ও ভাইকে মারপিটের ঘটনায় বখাটে সুমনকে প্রধান আসামি করে ২৪ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নাজমুল হকের পিতা আজিজুর রহমান। এ মামলায় অজ্ঞাত আসামী রয়েছে আরো ৫ জন। পুলিশ এ মামলায় রাতেই ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার বিচার চেয়ে পরদিন বুধবার সকালে ক্লাস বর্জনসহমানববন্ধন করেছে খানপুর জেপি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা, রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের ও চারঘাট সার্কেলের সিনিয়ার (এএসপি) নুরে আলম।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নে সুলতান গ্রামের রফিজ উদ্দিনের স্ত্রী রফিজা বেগম, রানা আলীর স্ত্রী রিতা বেগম, উপজেলার লালাপুর রামকৃষ্ণপুরের আবুল কাশেমের ছেলে জিল্লুর রহমান, মনিহারপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হোসেন, আমজাদ হোসেনের ছেলে সবিজ আহমেদ ও একই গ্রামের রঞ্জিতের ছেলে নজরুল ইসলাম।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতেই নিহতের বাবা অজিজুর রহমান থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সুলতানপুর গ্রামের আরজেদ আলীর ছেলে সুমনকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তারমধ্যে মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ ৬ জনকে রাতেই গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও মামলার প্রধান আসামি সুমনসহ বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্কুল ছাত্রী বৈশাখীর শিক্ষক পিতা সাজাহান আলী ও ভাই তুষারকে মারপিট করাসহ মামা নাজমুল হককে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যার বিচার চেয়ে বুধবার সকালে ক্লাস বর্জনসহ মানব বন্ধন কর্মসুচি পালন করেছেন খানপুর জেপি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা অবিলম্বে এ হত্যার সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে গ্রেফতারের দাবি জানান।
লালপুর উপজেলার মনিহারপুর গ্রামের শিক্ষক শাহাজান আলীর মেয়ে ও খানপুর জেপি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাজনিন তাবাসুম বৈশাখীকে (১৫) কে একই এলাকার আরজেত আলী ওরুপে ভোলা প্রামানিকের ছেলে সুমন আলী (২২) রাস্তা-ঘাটে প্রায় উত্যক্ত করতো। ঘটনাটি ছেলের পরিবারকে জানায় মেয়ের পরিবার। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সুমন।
সর্বশেষ ১৪ জানুয়ারি বিকেলে ওই ছাত্রী পাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে তার পথরোধ করে হাত ধরে টানা হেচড়া করে সুমন। এরপর ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটিও তার পরিবারের লোজনকে জানায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিকেলে কথা কাটা-কাটি ও ধাক্কা ধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় স্কুল ছাত্রীর বাবাকে অতর্কিত হামলা চালাই সুমন ও তার লোকজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় স্কুল ছাত্রীর ভাই ও মামা। একপর্যায় তিনজনকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। এরমধ্যে স্কুল ছাত্রীর মামাকে হাসুয়া দিয়ে দুই হাতে পাখনায় কোপ দিলে অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণে মামা নাজমুল হক মারা জান। বর্তমানে স্কুল ছাত্রীর পিতা লালপুর ও ভাই বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন।
সরেজমিন বুধবার সকালে নাজমুল হকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র সন্তান হারানোর বেদনায় কাতর তার মা। অপর দিকে স্ত্রী মুক্তা ৭ মাসের কন্যা সন্তান নুরিয়াকেক কোলে নিয়ে কান্নায় মুর্ছা যাচ্ছেন বার-বার। মুর্ছা যাচ্ছেন তার বাবা আজিজুর রহমান নিজেও।
নাজমুল হকের চাচা আব্দুল মালেক জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে থেকে নাজমুরের লাশ নিয়ে রওনা হয়েছেন তাঁর আরেক ভাই। বাদ মাগরিব সুলতানপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

জানুয়ারি ১৬
০৪:৪৪ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

তবুও স্বপ্ন দেখেন আকবর

তবুও স্বপ্ন দেখেন আকবর

মাহবুব মোরসেদ : আকবর আলী। বয়স ৪৮ বছর। চার ভাই ও এক বোন। পিতা আব্দুল্লাহ। বাড়ী নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার আই-হাই গ্রামে। বাবা-মা মারা গেছে অনেক আগে। সীমান্তবর্তী এই উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম এটি। কাজের সন্ধানে অনেক বছর আগে অন্য দেশে পাড়ি জমায় অন্য তিন ভাই, মোনতাজ, লতিফ ও বাবু।

বিস্তারিত




এক নজরে

চাকরি

অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রাজশাহী পাটকলের আট শ্রমিক

অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রাজশাহী পাটকলের আট শ্রমিক

স্টাফ রিপোর্টার : অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ গ্রাচ্যুইটির টাকাসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে আমরণ অনশনের মধ্যে রাজশাহী পাটকলের আটজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরা হলেন, আব্দুল গফুর, জয়নাল আবেদিন, আলতাফুন বেগম, মহসীন কবীর, আসলাম আলী, মোশাররফ হোসেন, মোজাম্মেল হক ও

বিস্তারিত