Daily Sunshine

একযুগে সোয়া লাখ মামলা নিষ্পত্তি

Share

গত এক বছরে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার অর্থ আদায়, সংসারে ফিরেছেন ২৫২টি পরিবার
শেখ রহমত উল্লাহ: মামলা দায়ের করে বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘোরার দিন শেষ হতে চলেছে। কমতে শুরু করেছে বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি। সেই সাথে কমছে মামলা জটও। বিগত বছরের তুলনায় ২০১৯ সালে মামলা নিষ্পত্তির হার বেড়ে যাওয়ায় এমনটি আশা করছেন আদালত সংশ্লিষ্টরা। রাজশাহী জেলার অন্তর্ভূক্ত ১০টি বিচারিক আদালত রয়েছে। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও এর অধিনে ৯টি আদালতে ২০১৮ সালে মামলা নিষ্পত্তির তুলনায় ২০১৯ সালে নিষ্পত্তি বেড়েছে প্রায় ১৪.৪৮ শতাংশ। এতে করে স্বল্প সময়ে প্রতিকার পাচ্ছেন বিচার প্রার্থীরা।
আর বছরের পর বছর জমে থাকা মামলার জট কমাতে নিয়ামক ভূমিকা পালন করছে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা আপসের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি। রাজশাহী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও এর অধিনস্থ ৯টি আদালতের বিচারকবৃন্দ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন। এ ক্ষেত্রে বাদী ও বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে সহযোগিতা করে আসছেন। সেই সাথে আদালতে স্বেচ্ছায় আইনী সহায়তা প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে বাদী ও বিবাদীদের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়তা করে আসছে।
রাজশাহী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এর এক বাৎসরিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় গত এক বছরে রাজশাহী জেলার ৯টি আদালতে ৯ হাজার ৪শ ৭৪টি মামলা দায়ের হয়েছে। নিষ্পত্তি হয়েছে ১০ হাজার ২শ ৭টি মামলার। আর গত ১২ বছরে মামলা দায়ের হয়েছে ৯৯ হাজার ৩শ ১৯টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ১ লাক্ষ ১৪ হাজার ৩টি মামলার। গত ১২ বছরে মামলার নিষ্পত্তির হার দাড়িয়েছে ১০২শতাংশ। গত বছরে যেসকল মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে তার অধিকাংশই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা আপসের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে।
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সম্পর্কে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের একজন জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা আপসের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি হলো আইনি ঝুৃকির বাইরে বাদী ও বিবাদীর মধ্যে বিবাদমান বিষয়ে সমঝোতার একটি প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে ফৌজদারী কার্যবিধি আইন ১৮৯৮ এর ৩৪৫ ধারা অনুসারে দন্ডবিধির কিছু ধারার অপরাধকে আপোষযোগ্য করা হয়েছে। এ ছাড়া মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১, পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫, দেওয়ানী কার্যবিদি আইনের-৮৯ ধারার এ,বি, সি এবং ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনেও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। এরই ভিত্তিতে আমরা বাদী ও বিবাদী পক্ষকে আপোসের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির ব্যাপারে উৎসাহিত করে থাকি। অধিকাংশ মামলার পক্ষ এই পদ্ধতিতে রাজি হয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকেন। ফলে আদালতে এসে স্বল্প সময়ে কাঙ্খিত প্রতিকার পাওয়ায় সময় ও অর্থের অপচয় রোধ করার পাশাপাশি বাদী-বিবাদীর ভোগান্তিও কমেছে। সংক্ষিপ্ত এ বিচার পদ্ধতিতে সন্তুষ্ট হচ্ছেন উভয় পক্ষ।
চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, গত ১ বছরে রাজশাহী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির মামলাগুলো গবেষণা করে দেখা যায় রাজশাহী জেলার বিচারিক আদালতগুলোতে যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন সংক্রান্ত মামলায় ৭৩১টি মামলার মধ্যে ৫৭১টি মামলাই আপস হয়েছে, ২৫২ জন দম্পতি আদালতের মধ্যস্থতায় আাপসের ভিত্তিতে সংসারে ফিরেছেন। ৩৯১টি মামলায় অসহায় নারীরা ৩ কোটি ৭০ লাখ ১১ হাজার ৭শ ২৩টাকা বুঝে পেয়েছেন। গত বছরে আরো ১ হাজার ৩শ ৪১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে আপসের মাধ্যমে।
এ ব্যাপারে ব্লাস্ট রাজশাহীর জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট কানিজ ফাতেমা বলেন, ছোট ছোট অভিযোগ গুলো আদালতের বেশি সময় নষ্ট করছে। আবার বাদী-বিবাদীর রেশারেশির কারণে একাধিক পাল্টা-পাল্টি মামলা করে এক জন অপর জনকে হয়রানির পাশাপাশি আদালতের কর্মঘন্টা নষ্ট করছে। তাই আইনের বিধান মতেই আদালতের সহযোগিতায় আমরা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে উভয় পক্ষকে উৎসাহ দিয়ে আসছি। এ পদ্ধতিতে কোন পক্ষেরই হার-জিত হবেনা। তাদের মধ্যে সমতা বজায় থাকার পাশাপাশি সুসম্পর্কও বজায় থাকে।

জানুয়ারি ১৫
০৪:২৮ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

সেলাই মেশিনেই চল্লিশ বছর

সেলাই মেশিনেই চল্লিশ বছর

রোজিনা সুলতানা রোজি : জীবন তো চলবেই জীবনের মতো ! তবে জীবনের মান চলমান রাখতে বিভিন্ন জন বেছে নিচ্ছেন বিচিত্র পেশা। কারন, জীবনের ভার বহন করতে জীবিকা প্রয়োজন সর্বাগ্রে। কেউ ছোটবেলা তো কেউ বড় হয়ে, সবাইকেই কোনো না কোনো পেশার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতেই হয়। যার যার সুবিধা মত তারা

বিস্তারিত




এক নজরে

চাকরি

অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রাজশাহী পাটকলের আট শ্রমিক

অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রাজশাহী পাটকলের আট শ্রমিক

স্টাফ রিপোর্টার : অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ গ্রাচ্যুইটির টাকাসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে আমরণ অনশনের মধ্যে রাজশাহী পাটকলের আটজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরা হলেন, আব্দুল গফুর, জয়নাল আবেদিন, আলতাফুন বেগম, মহসীন কবীর, আসলাম আলী, মোশাররফ হোসেন, মোজাম্মেল হক ও

বিস্তারিত