Daily Sunshine

হাঁসের খামারে স্বাবলম্বী ভোলাহাটের ১৭ যুবক

Share

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী উপজেলা ভোলাহাট। এখানে আয়ের প্রধান উৎস কৃষিকাজ। বিশেষত আম ও ধানের চাষ। উপজেলার বিলভাতিয়া, বাগডোগ্রা, চকচোকা এলাকাগুলো নিচুঁ। বছরের কয়েক মাস বর্ষার পানিতে তলিয়ে থাকে। এ সময় কোন ফসল না হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়ে হাজারো মানুষ। আয়ের বিকল্প উৎস হিসেবে কয়েক বছর ধরে উপজেলার মাসুদ রানা, মুনিরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, রুবেল আলী, রহিম আলীসহ প্রায় ১৭ জন যুবক বিলভাতিয়া বিলে গড়ে তুলেছেন ভ্রাম্যমাণ পাতি হাঁসের খামার। এতে স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা। এমন একজন মাসুদ রানা। বাড়ি উপজেলার সুরানপুর গ্রামে। রহনপুর ইফসুফ আলি কলেজ থেকে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে অনার্স পাশ করে গ্রামের একটি প্রাইভেট স্কুল ‘সুরানপুর নুরানী একাডেমী’তে চাকরি করছেন। এ আয় পর্যাপ্ত নয়। ভাল একটা চাকরি পাবেন, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে নিজে কিছু একটা করার কথা ভাবেন। একটি হাঁসের খামার শুরু করেন।
মাসুদ রানার খামারে বর্তমানে হাঁসের সংখ্যা ৯০০। তিনি জানান, গ্রামের কয়েকজনের হাঁসের খামার ছিল। তাদের হাঁস পালন করতে দেখছেন। এই অভিজ্ঞতা থেকেই খামার শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, আমি প্রথমে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে ৭০০ পাতিহাঁস কিনি। পরে আরো ২০০ কিনি। বর্তমানে আমার ৯০০ পাতিহাঁসের খামার। এখান থেকে প্রতিদিন ৫০০ পিস ডিম পাই। খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন আমার আয় হয় ২৫০০ টাকা। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক বেকার যুবকের। স্থানীয়ভাবে এসব পাতি হাঁসের মাংসের চেয়ে ডিমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি।
মাসুদের মত আরেক খামারী ঐ গ্রামের ঝাটু শেখের ছেলে মুনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি ১০ বছর যাবত পাতিহাঁস পালন করে বেশ স্বাবলম্বী হয়েছি। এখান থেকেই আমি ছেলে-মেয়েদের রাজশাহীতে লেখাপড়া করাতে পারছি।
খামারী হাবিবুর রহমান, রুবেল আলী ও রহিম আলী জানান, হাঁস পালন করে তারা বেশ কিছুটা আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন। যদি সরকারিভাবে সহযোগিতা পান, তবে স্থায়ীভাবে বেশ বড় করে খামার গড়ে তুলতে পারবেন এতে কর্মসংস্থান হবে হাজারো বেকারের।
হাঁসের খামারে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন অনেকেই। শহিদুল ইসলাম নামের খামারের এক শ্রমিক জানান, কাজ কর্ম না থাকায় প্রায়ই সময় বেকার থাকতে হত। ফলে সংসারের অভাব অনটন লেগেই থাকত। মাসুদ রানার খামারে কাজ শুরু করার পর এখন পরিবার নিয়ে সুখেই আছেন তিনি।
ভোলাহাট উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, হাঁস পালনে খামারীদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রানীসম্পদ বিভাগের হিসেবে উপজেলায় ২২টি পাতি হাঁসের খামার আছে। সবগুলোই খামারে ডিম উৎপাদন করা হয়। অনেক খামারী আছেন যাদের বারবার আমাদের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করছেন না। ডিলারদের মাধ্যমে ওষুধ, খাবার নিয়ে খামার করছেন।

ডিসেম্বর ০৪
০৪:৫৫ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

বাবুর্চি থেকে হোটেল মালিক আফজাল

বাবুর্চি থেকে হোটেল  মালিক আফজাল

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: ছিলেন বাবুর্চি এখন হোটেল মালিক। ৯০’ এর দশকে হোটেলের বয় হিসাবে যাত্রা শুরু এই যুবকের। আজ তিনি নিজেই একটি হোটেল পরিচালনা করছে। সুদীর্ঘ এই পেশাদার জীবনে অনেক পেয়েছেন। পেয়েছেন অর্থ, খ্যাতি, সম্মান ও সর্বোপরি সবার ভালোবাসা। এ ছাড়া বাগমারার সকল হোটেল কর্মচারিরা তাকে নেতাও বানিয়েছে। তিনি

বিস্তারিত




এক নজরে

চাকরি

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সানশাইন ডেস্ক: সদ্য কার্যকর হওয়া সরকারি চাকরি আইনের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাতটি ধারা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে স্পিকার ও ছয় সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী

বিস্তারিত