Daily Sunshine

নোম্যান্স ল্যান্ডে বিএসএফ চৌকি

Share

রাজশাহী সীমান্তে উত্তেজনা বিজিবির প্রতিবাদ
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সীমান্তের জিরোলাইন বা নোম্যান্স ল্যান্ডের ওপরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একটি অস্থায়ী চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিজিবির কোম্পানি পর্যায়ে ইতিমধ্যে প্রতিবাদ জানাতে চিঠি ও বার্তা পাঠালেও বিএসএফ তা গ্রহণ করেনি।
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সাহেবনগর সীমান্তে শুক্রবার গভীর রাতে বিএসএফ এ চৌকিটি স্থাপন করেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বলছেন, বিএসএফ যেখানে অস্থায়ী চৌকিটি করেছেন, সেই জায়গাটি বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরেই পড়ে। বিএসএফ সেখানে অবস্থান নিয়ে থাকছেন।
রাজশাহীর ১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন ডেলটা কোম্পানির কমান্ডার নায়েব সুবেদার শওকত আলী জানান, বিএসএফ জিরোলাইনের ৭০ মিটারের ভিতরে অস্থায়ী ছাউনিটা করেছে, সেটি নোম্যান্সল্যান্ডের ওপরে। বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ বার্তা পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নোম্যান্সল্যান্ড থেকে নিজ নিজ সীমানার ১৫০ মিটার ভেতরে চৌকি করার নিয়ম। হঠাৎ গড়ে ওঠা এই চৌকিটা দেখতে পেয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের চরলবণগোলা কোম্পানিকে চিঠি ও বিভিন্ন মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিএসএফ কোনো চিঠি গ্রহণ করেনি। বিষয়টি বিজিবির রাজশাহী ব্যাটালিয়ন সদর কমান্ডার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়ার পর সেভাবেই পদক্ষেপ নেয়া হবে।
নায়েব সুবেদার শওকত আলী জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সাহেবনগর সীমান্ত ফাঁড়ির এক কিলোমিটার পূর্ব পাশে পদ্মা নদী থেকে বের হয়ে একটি কাটা নদী উত্তর থেকে দক্ষিণমুখী হয়ে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার চরলবণগোলা এলাকায় ঢুকেছে। তবে কাটা নদীটির ভাঙনে সেখানকার সীমানা পিলারগুলো গত বছরই নদীতে বিলীন হয়ে যায়। সম্প্রতি কাটা নদীটিতে পানি কমে গিয়ে পশ্চিমপ্রান্তে বাংলাদেশ সীমানার মধ্যে ছোট একটি চর পড়েছে। নোম্যান্সল্যান্ড সংলগ্ন চরটিতে গিয়ে কিছু দিন ধরে বিজিবি সদস্যরা টহল করতেন। চরটি বাংলাদেশ ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত বলে নৌকা ছাড়াই পায়ে হেঁটেই বিজিবি সেখানে যাতায়াত করতেন।
এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার রাতে বিএসএফ সদস্যরা ইঞ্জিন নৌকাযোগে চরটিতে গিয়ে রাতারাতি সেখানে বাঁশের মাচা পেতে ওপরে খড় ও পাটকাঠি দিয়ে একটি অস্থায়ী চৌকি তৈরি করেন। পর দিন শনিবার সকাল থেকে ভারতের চরলবণগোলা ফাঁড়ির বিএসএফ সদস্যরা সেখানে অবস্থান ও টহল করতে শুরু করেন।
এলাকাবাসী আরও জানায়, বিজিবি সদস্যরা রোববার দিনেরবেলায় একবার ও রাতেরবেলা আরেকবার চরের কাছাকাছি গিয়ে চলে যাওয়ার সিগন্যাল দিলে বিএসএফ সদস্যরা চৌকি ছেড়ে পালিয়ে যান। রাতে আবারও নৌকা যোগে গিয়ে বিএসএফ সদস্যরা চরে ওঠার চেষ্টা করলে খবর পেয়ে বিজিবি চরে গিয়ে অবস্থান নেন। এর পর বিএসএফ নৌকা ঘুরিয়ে ভারতের ভেতরে চলে যায়। তবে গভীর রাতে বিএসএফ আবারও চরের অস্থায়ী চৌকিতে গিয়ে অবস্থান নেয়। সোমবার সকালে বিজিবি সেখানে গেলে বিএসএফ চর ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
বিজিবি সূত্র বলছে, বিএসএফ সদস্যদের এই লুকোচুরিতে তারা বিরক্ত। এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে গিয়ে চৌকিটি ভেঙে ফেলার জন্য বিজিবিকে চাপ দিচ্ছে। তবে তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো ঘটনা না ঘটাতে বিজিবি গ্রামবাসীকে নিষেধ করেছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, নতুন এই চরটির সঙ্গে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড সংযুক্ত। চরের আশপাশে রয়েছে বাংলাদেশের ফসলি জমি, যেখানে কৃষকরা নিয়মিত চাষাবাদের কাজ করতেন। কিন্তু শুক্রবার রাত থেকে বিএসএফ অস্থায়ী চৌকি তৈরি করার পর থেকে কৃষকরা জমিতে যেতে পারছেন না। কৃষকরা তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে চরে অস্থায়ী চৌকি তৈরির জন্য বিজিবির কাছে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে বিজিবি ১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ জানান, সীমান্তে বিএসএফ একটি ছনের তৈরি চৌকি স্থাপন করেছে। তবে এটি শুন্যরেখার মধ্যে নাকি ভারতীয় অংশে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায় নি। বিষয়টি সুরাহার জন্য মঙ্গলবার সকাল দশটায় বিএসএফকে সরোজমিনে আসতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাদের উপস্থিতিতেই বিজিবি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

ডিসেম্বর ০৩
০৪:২৬ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

বাবুর্চি থেকে হোটেল মালিক আফজাল

বাবুর্চি থেকে হোটেল  মালিক আফজাল

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: ছিলেন বাবুর্চি এখন হোটেল মালিক। ৯০’ এর দশকে হোটেলের বয় হিসাবে যাত্রা শুরু এই যুবকের। আজ তিনি নিজেই একটি হোটেল পরিচালনা করছে। সুদীর্ঘ এই পেশাদার জীবনে অনেক পেয়েছেন। পেয়েছেন অর্থ, খ্যাতি, সম্মান ও সর্বোপরি সবার ভালোবাসা। এ ছাড়া বাগমারার সকল হোটেল কর্মচারিরা তাকে নেতাও বানিয়েছে। তিনি

বিস্তারিত




চাকরি

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সানশাইন ডেস্ক: সদ্য কার্যকর হওয়া সরকারি চাকরি আইনের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাতটি ধারা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে স্পিকার ও ছয় সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী

বিস্তারিত