Daily Sunshine

শীতকালীন সবজির দ্বিগুন দাম

Share

নুরুজ্জামান, বাঘা: সকল প্রকার সবজি ভান্ডার হিসাবে খ্যাত রাজশাহীর বাঘায় এবার শীত বাড়ার সাথে-সাথে শীতকালীন সবজির দামও বাড়তে শুরু করেছে। গত মৌসুমে এলাকায় যে দামে শীতকালীন সবজি কেনা-বেচা হয়েছে এবার তা দ্বিগুনে দাঁড়িয়েছে।
লোকজন বলছেন, গত বছর যে ফুলকফি ও সিম ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে পাওয়া গেছে তা এবার বেড়ে হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। এমনি ভাবে প্রতিটি সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য তা ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
সরেজমিনে রোববার উপজেলা সদরে অবস্থিত বাঘার হাট ঘুরে দেখা যায়, পাতা কফি বিক্রী হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। একই সাথে পালং শাক বিক্রী হচ্ছে ২০ টাকা, নতুন আলু ৫০ টাকা, পুরাতন আলু ৩০ টাকা, ফুলকফি ৪৫ টাকা, সিম ৫০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, মুলা ১৫ টাকা, শসা ৪০ টাকা, লাল শাক ২০ টাকা, কচু ৬০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, পটল ৩৫ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, ধনিয়া পাতা ১০০ টাকা এবং পেঁপে ১৫ টাকা। এ অবস্থা শুধু বাঘার হাটে তা নয়, এ চিত্র উপজেলার সকল হাট-বাজারে। অথচ এ সমস্ত সবজি গতবছর সবগুলোই ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেছে।
বাঘার হাটে কাঁচা বাজার করতে আসা উপজেলার আমোদপুর গ্রামের একজন ক্রেতা বাবুল হোসেন জানান, গতবছর শীত মৌসুমে আমি ফুলকফি কিনেছি ২০ টাকা, করলা কিনেছি ৩০ টাকা এবং কচু কিনেছি ২৮ থেকে ৩০ টাকা এ ছাড়াও পটল কিনেছি সর্বচ্চ ২০ টাকা কেজি। অথচ এবার প্রতিটি পণ্যের দাম দ্বিগুন। যা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
উপজেলার চক ছাতারী গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, এ বছর শীতে প্রতিটি সবজির দাম আকাশ ছোঁয়া। তিনি বলেন, দ্রব্য মূল্যের বাজারে সরকারী কর্মকর্তাদের মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মত সকল সবজির দাম বেশি ধরছে। তার মতে, চলতি শীত মৌসুমে সবজির দাম যদি এ রুপ অবস্থায় চলতে থাকে তাহলে সমাজে এমনও মানুষ আছে যাদের লবন দিয়ে ভাত খেতে হবে। আর কিছু সংখ্যক মানুষ কফি-আলুর পরিবর্তে খাবে কেবল পেঁপে আর মুলা।
বাঘা হাটের সবজি বিক্রেতা মানিক মিয়া জানান, এ উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলকে সবজি ভান্ডার বলা হয়। এখানকার সবজি স্থানীয় চাহিদা পুরণ করে অন্যত্র রপ্তানী হয়। কিন্তু এ বছর অসময়ে নদীতে পানি থাকায় উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলের মানুষ ব্যাপক পরিমান সবজির আবাদ করাতে পারেনি। এ জন্য হাটে সবজির আমদানী কম, দামও দ্বিগুন। অনুরুপ কথা বলেন, উপজেলার মনিগ্রাম হাটের সবজি ব্যবসায়ী বজলুর করিম।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লা সুলতান বলেন, বাঘার মাটি সবজি চাষাবাদের জন্যে উপযোগী। তার মতে, উপজেলার সমতল এলাকার ৬টি ইউনিয়নে যে পরিমানে সবজি চাষ হয় আনুপাতিক হারে সমপরিমান চাষ হয় উপজেলার চরাঞ্চল ১টি ইউনিয়নে।
কিন্তু এবার অসময়ে নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যা কবলিত হয় চরাঞ্চল। এজন্য বিগত যেকোন সময়ের চেয়ে ওই অঞ্চলে এবার সবজি চাষ কম হয়েছে। এ জন্য সবজির বাজার গতবারের চেয়ে গরম। এ ক্ষেত্রে সবজি চাষিরা আর্থিক ভাবে লাভবান হলেও সাধারণ গ্রাহকরা সবজি ক্রয়ে হিম-শিম খাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ডিসেম্বর ০৩
০৪:২৪ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

বাবুর্চি থেকে হোটেল মালিক আফজাল

বাবুর্চি থেকে হোটেল  মালিক আফজাল

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: ছিলেন বাবুর্চি এখন হোটেল মালিক। ৯০’ এর দশকে হোটেলের বয় হিসাবে যাত্রা শুরু এই যুবকের। আজ তিনি নিজেই একটি হোটেল পরিচালনা করছে। সুদীর্ঘ এই পেশাদার জীবনে অনেক পেয়েছেন। পেয়েছেন অর্থ, খ্যাতি, সম্মান ও সর্বোপরি সবার ভালোবাসা। এ ছাড়া বাগমারার সকল হোটেল কর্মচারিরা তাকে নেতাও বানিয়েছে। তিনি

বিস্তারিত




চাকরি

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সানশাইন ডেস্ক: সদ্য কার্যকর হওয়া সরকারি চাকরি আইনের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাতটি ধারা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে স্পিকার ও ছয় সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী

বিস্তারিত