Daily Sunshine

একটি রিকশা চান সুমি

Share

রোজিনা সুলতানা রোজি : বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় আড়াইটা। রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকা। রিকশার জন্য এদিক ওদিক তাকাতেই চোখ আটকে গেল মলিন চেহারার এক মহিলা রিকশাওয়ালার দিকে। সাধারনত এই পেশায় মহিলাদের খুব একটা দেখা যায় না। দেখা গেলেও তা হাতেগোনা কয়েকজন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ডাক দিয়ে বললেন, ‘আপা কোথায় যাবেন, আসেন’। কৌতুহল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে তার রিকশায় উঠে তার সম্পর্কে জানতে চাইলাম।
তিনি জানালেন, তার নাম সুমি ক্রশ। খ্রিষ্টান। বয়স প্রায় ৩৫। তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে রাজশাহী শহরে ডিঙ্গাডোবা এলাকায় বসবাস করছেন। সেখানে স্থানীয় গ্যারেজ থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দিন হিসেবে দিয়ে রিকশা আবার কখনো ছয়সিটের অটোরিকশা নিয়ে তা চালিয়েই জীবিকার চাকা ঘুরিয়ে আসছেন তিনি।
সুমি ক্রশ জানান, তার বাবার বাড়ি নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার পারবর্নী গ্রামে। ছোট বেলায় বাবা লুকাস মারা যায়। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সুমি সবার বড়। এত ভাই বোনদের নিয়ে তার মা দেলেনা সংসার সামলাতে হিমশিম খাওয়া অবস্থায় পড়েন। এজন্য তার লেখাপড়া করাও সম্ভব হয়নি।
তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, অল্প বয়সে তার মা তাকে বিয়ে দিয়ে দেন সিলেট শহরের রমেশ নামের এক ছেলের সাথে। সেখানে দাম্পত্য জীবনে সুমির কোল আলো করে আসে হৃদয় ও জয় নামে দুটি সন্তান। তখন সুমি ভেবে ছিলেন এখন সে সুখের দেখা পেয়েছে। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। সন্তান দুটি বড় না হতেই হঠাৎ তার স্বামী রমেশ মারা যায়।
তখন তিনি কোন উপায়ান্তর না পেয়ে প্রথমে সিলেটেই রিকশার প্যাডেলে পা রাখেন সুমি। তাতেও সংসারের হাল সামলাতে না পেরে ছোট ছেলে জয়কে সিলেটেই স্থানীয় এতিম খানায় দিয়ে দেন এবং বড় ছেলে হৃদয়কে নিয়ে চলে আসেন বাবার বাড়িতে। কিন্তু সেখানেও এত ভাই-বোন থাকা সত্বেও ঠাই হয়নি তার।
পরে সুমি বিভিন্ন কাজ করে কোন রকমে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে আসছিলেন। এরপর তিনি পাঁচ বছর আগে বড় ছেলে হৃদয়কে নিয়ে চলে আসেন রাজশাহী শহরে। আবার শুরু করেন রিকশা এবং অটোরিকশা চালানো। ছেলে নগরীর একটা রেষ্টুরেন্টে কাজ নেয়। বছর দুয়েক আগে ছেলেও বিয়ে করে। বউ থাকার ঘর না থাকায় ছেলেও আলাদা হয়ে যায়।
সুমি আরো জানান, তার রান্না করার মত চুলা পর্যন্ত নেই। যা আয় করে তা দিয়ে তিন বেলাই বাহিরে খাওয়া-দাওয়া করে এবং ছেলেকে দেখাশোনা করেন। সুমি বলেন, তিনি শারীরিক ভাবে অসুস্থ হওয়ায় বেশি রিকশা চালাতে পারেন না। কিন্তু গ্যারেজের মালিক তো আর তা শুনবে না। তাকে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা ঠিকই পরিশোধ করতে হয়। তাই তিনি আশা প্রকাশ করে করে বলেন, কোন স্ব-হৃদয় ব্যক্তি যদি তাকে একটা রিকশা দান করতেন ! তার নিজের যদি একটা রিকশা থাকতো তাহলে ভবিষ্যতের জন্য চিন্তামুক্ত থাকতেন বলে জানান সুমি ক্রশ।

নভেম্বর ২৯
০৩:৪৭ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

বাবুর্চি থেকে হোটেল মালিক আফজাল

বাবুর্চি থেকে হোটেল  মালিক আফজাল

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: ছিলেন বাবুর্চি এখন হোটেল মালিক। ৯০’ এর দশকে হোটেলের বয় হিসাবে যাত্রা শুরু এই যুবকের। আজ তিনি নিজেই একটি হোটেল পরিচালনা করছে। সুদীর্ঘ এই পেশাদার জীবনে অনেক পেয়েছেন। পেয়েছেন অর্থ, খ্যাতি, সম্মান ও সর্বোপরি সবার ভালোবাসা। এ ছাড়া বাগমারার সকল হোটেল কর্মচারিরা তাকে নেতাও বানিয়েছে। তিনি

বিস্তারিত




চাকরি

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সানশাইন ডেস্ক: সদ্য কার্যকর হওয়া সরকারি চাকরি আইনের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাতটি ধারা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে স্পিকার ও ছয় সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী

বিস্তারিত