Daily Sunshine

রাজশাহী জেলা আ.লীগের সম্মেলন পেছালো: নতৃত্বের দৌড়-ঝাঁপে নতুন মুখ

Share

স্টাফ রিপোর্টার : চারদিন পিছিয়েছে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন। আগামী ৪ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৮ ডিসেম্বর রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সে হিসেবে সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, সম্মেলন সফল করতে আগামী ২৩ নভেম্বর প্রস্তুতি কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমীর মিলনায়তনে সকাল ১০ টায় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সমন্বয়ক ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, মহানগরের সভাপতি এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক মেরাজ উদ্দিন মোল্লা এ সভা আহবান করেছেন।
সভায় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্য, জাতীয় কমিটির সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্য, দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সহযোগী সংগঠনের রাজশাহী জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দলীয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার দলীয় মেয়রদের উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আগামী ৪ ডিসেম্বর সম্মেলনের দিন নির্ধারণ ছিল। কেন্দ্র থেকে সম্মেলনের দিন নির্ধারণ করা হয়। তবে বিশেষ কারণে কেন্দ্র থেকেই চারদিন পিছিয়ে সম্মেলনে আগামী ৮ ডিসেম্বর আয়োজন করার নির্দেশ এসেছে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, সম্মেলন ঘিরে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। জেলার প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নের তৃণমূল পর্যায়ে চলছে আলাপ-আলোচনা। পুরাতনদের সাথে সাথে নেতৃত্বের দৌড়-ঝাঁপে রয়েছেন নতুন মুখও। প্রত্যেকেই প্রত্যেকের অবস্থান থেকে করছেন লবিং-গ্রুপিং। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উপজেলা ভিত্তিক প্রত্যাশা থাকলেও বেশিরভাগ নেতাকর্মী চায় কমিটিতে এবার নতুন নেতৃত্ব আসুক। তবে কমিটিতে বর্তমান নেতৃত্বকেও চান অনেকে।
তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বলছেন, বিভিন্ন সময় দলের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হয়েছেন। তারা যেমন পদ-বঞ্চিত হয়েছেন, একইভাবে দলীয় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তি থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। অনেকে দলে কোণঠাসা হয়ে রয়েছেন। এইজন্য উপজেলায় তৃণমূল পর্যায়ে রয়েছে নানা বিভক্তিও। উপজেলায় যারা দলে পদবঞ্চিত তারা স্থানীয় সাংসদদের বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। আর যারা সাংসদের সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন তারা কমিটিতে প্রত্যাশা করছেন। আবার তৃণমূল নেতাদের কেউ কেউ নিজেই এবার জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সবাই চায় কমিটিতে এবার নতুন নেতৃত্ব আসুক। উপজেলা পর্যায়ে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, প্রত্যেকটি উপজেলায় নেতাকর্মীরা দুইটি গ্রুপে বিভক্ত। একটি গ্রুপ সাংসদের পক্ষে আর একটি গ্রুপ সাংসদবিরোধী। তবে বেশিরভাগ নেতাকর্মীরা তাদের স্ব স্ব আসনের সাংসদরা কমিটিতে নেতৃত্বে আসুক এমনটাই প্রত্যাশা করছেন। আবার সাংসদবিরোধীরা খুঁজছেন সাংসদের অনুসারীর বাইরের কেউ নেতৃত্বে আসুক।
বাগমারা আওয়ামী লীগের কর্মী তোফায়েল আহমেদ বলেন, কমিটিতে এমন নেতৃত্ব চায় যারা দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করবে। দলকে গতিশীল করবে। দলের ভেতরে শৃঙ্খলা ও নীতি বজায় রাখবে। তবে এইজন্য নতুন নেতৃত্ব অবশ্যই দরকার। আমি মনে করি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিবে। গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘দল ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুঃসময়ের অনেক ত্যাগী নেতা অবহেলিত ও কোণঠাসা হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। আমার মতে দলে এবার এমন ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা উচিত।’
চারঘাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগে স্বচ্ছতা ও সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রত্যাশা করছি। এমন নেতৃত্ব চায় যারা দলের ভেতরে পরিবর্তন নিয়ে আসবেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, জেলা আওয়ামী লীগে বিদ্যমান সব জটিলতা নিরসন করে একটি সুন্দর নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছি। এমন একটি নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছি যাতে আগামি দিনের জেলার রাজনীতি প্রাণবন্ত ও বেগবান হয়।
দুর্গাপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাহার আলী বলেন, একজন জনপ্রিয় নেতা যে সত্যিকার অর্থেই সৎ এবং ভালো মানুষ, জনকল্যাণে কাজ করেন, এমন নেতা আমরা চাই। কর্মীবান্ধব এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছি যারা আপদে-বিপদে সবসময় কর্মীদের পাশে থাকবেন। এমন নেতা যদি জেলার নেতৃত্বে আসেন তাহলে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে। তবে বলতে চাই, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের পরির্বতন অতি জরুরি। দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, সৎ সাহসী, মেধাবী ও কর্মীবান্ধব নেতা চাই। যে নেতা কর্মীদের মূলায়ন করবেন। সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাবেন। যার কথা আমরা শুনবো এবং আমাদের কথা ওই নেতা শুনবেন। সেরকম নেতা দরকার।

নভেম্বর ২১
০৪:২৮ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

বাবুর্চি থেকে হোটেল মালিক আফজাল

বাবুর্চি থেকে হোটেল  মালিক আফজাল

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: ছিলেন বাবুর্চি এখন হোটেল মালিক। ৯০’ এর দশকে হোটেলের বয় হিসাবে যাত্রা শুরু এই যুবকের। আজ তিনি নিজেই একটি হোটেল পরিচালনা করছে। সুদীর্ঘ এই পেশাদার জীবনে অনেক পেয়েছেন। পেয়েছেন অর্থ, খ্যাতি, সম্মান ও সর্বোপরি সবার ভালোবাসা। এ ছাড়া বাগমারার সকল হোটেল কর্মচারিরা তাকে নেতাও বানিয়েছে। তিনি

বিস্তারিত




এক নজরে

চাকরি

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সানশাইন ডেস্ক: সদ্য কার্যকর হওয়া সরকারি চাকরি আইনের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাতটি ধারা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে স্পিকার ও ছয় সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী

বিস্তারিত