Daily Sunshine

বাগমারায় অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে আ’লীগে কোণঠাসা ত্যাগি নেতাকর্মী

Share

মাহফুজুর রহমানর প্রিন্স, বাগমারা: অদৃশ্য শক্তির কারণে রাজশাহীর বাগমারায় জামায়াত, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সারা উপজেলায়। আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশ করেই তারা অদৃশ্য শক্তির কারণে বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে স্থানীয় একাধিক আ’লীগের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন।
ওই সকল ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টুর মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। ওই দ্বন্দ্বের জের ধরে বাগমারা উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী দলীয় নেতা ও পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়। বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু গ্রুপকে নাজেহাল করা হয় বলে অভিযোগ তুলেন সান্টুপন্থীরা।
স্থানীয় আ’লীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ও জাকিরুল ইসলাম সান্টুর দ্বন্দ্বের কারণে অনুপ্রবেশকারীরা দলের ঢুকে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে দিয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতনের কারণে তৃণমূলের কর্মীরা আওয়ামী লীগ বিষয়ে মুখ খুলতে চাচ্ছেন না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতিসহ একাধিক দলীয় নেতাকর্মীর অভিযোগ, উপজেলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্বের কারণেই জামায়াত শিবির, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একাধিক নেতাকর্মী দলে ভিড়ে গিয়ে নানা ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিসংগঠন জামায়াতুল মুযাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি’র) ক্যাডার সাজাপ্রাপ্তদের দলে নিয়ে নিজের শক্তি বৃদ্ধি করেছেন বলে দলীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানান, এক সময়ের ত্রাস সৃষ্টকারী বাগমারার শিবির সভাপতি মোল্লাহ এম আলতাফ হোসেনকে দলে নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও আব্দুস সালামকে সাধারণ সদস্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধীতাকারী সোনাডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আজহারুল হককে দলে ভিড়িয়ে দেয়া হয় উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি পদ। এছাড়াও যাদেরকে দলে ভিড়িয়ে নিয়ে দলের বিভিন্ন পদমর্যদায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাদের তালিকা তৈরী শুরু করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী।
তারা বলেন, স্থানীয় সাংসদের চাচাত ভাই ফরহাদ হোসেন মজনুকে জাতীয় পার্টি থেকে দলে নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের দায়ীত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবু হেনার ভাতিজা, উপজেলা বিএনপির ত্যাগী নেতা মাসুদ আলম টনি, উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুল ইসলাম, সাবেক শিবির সভাপতি গনিপুর ইউনিয়নের জেএমবি ক্যাডার আব্দুল হালিম, যোগীপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে যারা আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশ করে সুবিধা ভোগ করছেন তারা হলেন, বিএনপির নজরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম বাদশা, মাজেদুল ইসলাম সোহাগ, পল্লী চিকিৎসক মোজাম্মেল হক, মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম, আবু তালেব, লুৎফর রহমান, নুরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদ ও নুরুল ইসলাম, শ্রীপুর ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলীকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়ীত্ব দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে বাসুপাড়া ইউনিয়নের জামায়াত নেতা মকবুল হোসেনকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়ীত্ব দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে মকবুল হোসেনের বাবা সাদেক আলী ও চাচা নাজিবুল্লাহ মানুষের বাড়ির মালামাল লুট করেছে বলে এলাকার লোকজন অভিযোগ তুলেছেন।
এছাড়াও জামায়াত নেতা গোপালপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল হোসেনকে দলে ভিড়িয়ে নিয়ে অধ্যক্ষের দায়ীত্ব দেয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ আবুল হোসেন এ মাদ্রাসায় শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখিত অনুপ্রবেশকারী ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শতশত বিতর্কিতরা অন্যদল থেকে আ’লীগে যোগদান করেছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
এ ব্যাপারে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মাহাবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলে অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে হলে প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে তৃণমূল থেকে প্রকৃত আওয়ামী লীগকে বাছাইয়ের মাধ্যমে কাউন্সিলর করতে হবে। তা হলেই অনুপ্রবেশকারীরা আওয়ামী লীগের ঠাঁই পাবে না।
নরদাশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরি কমিটির সদস্য মাষ্টার আনিছুর রহমান আনিছ বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ দল। এ দলে জনগণের অভাব নেই। অথচ স্থানীয় কতিপয় শক্তিধর ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে টেনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।
তিনি ওই সকল বিতর্কিত ব্যক্তিদের দল থেকে বের করে দিয়ে প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ এবং ভালো মানুষের জন্য দলে জায়গা করে দিতে হবে। তাহলে আওয়ামী লীগের কাওকে নিয়ে আর বিতর্ক দেখা দেবে না।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ মতিউর রহমান টুকু জানান, দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে চিঠি এসেছে। আমরা সে মোতাবেক কার্যক্রম শুরু করেছি। সেখানে স্পষ্ট ভাবে বলা আছে দলের কোন পদে অনুপ্রবেশকারী এবং বিতর্কিতরা থাকতে পারবে না।
বাগমারার উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন কমিটিতে এ ধরণের অনুপ্রবেশকারী কতজন রয়েয়েছেন এমন প্রশ্নে টুকু বলেন, তাদের সংখ্যা কমবেশি ৫০-৬০ জন হতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টুৃ প্রায় একই অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের বিরাজমান দ্বন্দ্ব নিরসনে শুক্রবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা জেলা নেতৃবৃন্দদের নিয়ে মিটিং করেছেন। সেখানে অনুপ্রবেশকারীদের দলে না রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া আগামী ৪ ডিসেম্বর জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সান্টু আশা প্রকাশ করে বলেন, সুষ্ঠ সুন্দরভাবে জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাগমারার দলীয় পর্যায়ে বিরাজমান সমস্যারও সমাধান হয়ে যাবে।

নভেম্বর ০৯
০৩:৫১ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শিল্পের নান্দনিকতায় মুগ্ধ দর্শনার্থী

শিল্পের নান্দনিকতায়  মুগ্ধ দর্শনার্থী

রোজিনা সুলতানা রোজি : এ যেন এক অন্য সবুজের সমারোহ এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলন মেলা। গাঢ় সবুজের ফাঁকে ফাঁকে শোভা পাচ্ছে লাল, সাদা, গোলাপী, হলুদসহ হরেক রকম ফুল। টবে বসানো আস্ত আস্ত সবুজ গাছের খর্বাকৃতি। বাংলাবট, লাইকড়, তেঁতুল, কামীনি প্রভৃতি সব গাছের সমারোহ। এ যেন শিল্পীর ছোয়ায় একেকটি নান্দনিক বৃক্ষের সমাহার।

বিস্তারিত




এক নজরে

চাকরি

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সানশাইন ডেস্ক: সদ্য কার্যকর হওয়া সরকারি চাকরি আইনের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাতটি ধারা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে স্পিকার ও ছয় সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী

বিস্তারিত