Daily Sunshine

নতুন নীড়ে শামুকখোল

Share

রোজিনা সুলতানা রোজি : কয়েক বছর ধরে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের গাছে গাছে বাসা বেধে স্থায়ী হয়েছিলো শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। স্থায়ী অভয়ারণ্য হিসেবে উড়াউড়ি থেকে শুরু করে বংশ বিস্তার করে আসছিলো সেখানেই। তবে জনপ্রতিরোধ উপেক্ষা করে কারাগারের গাছগুলো কেটে ফেলায় নীড়হারা হয়ে পড়ে এসব পাখির দল। অবশেষে সেই পাখিরা নীড় খুজে পেয়েছে এই নগরেই। তারা এখন বাসা বেধেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হাসাপাতাল সংলগ্ন গাছে গাছে। এখন হাসপাতালের রোগী, চিকিৎসক আর স্বজনদের ঘুম ভাঙ্গে এসব পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে।
‘বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’-এ প্রবাদটি প্রায় সকলেরই জানা। মায়ের কোলে শিশুর সৌন্দর্যের যেমন তুলনা হয় না, তেমনি বনে বন্যপ্রাণীর সৌন্দর্যেরও বর্ণনা করা যায় না। তাই যে পরিবেশে যার আবির্ভাব সে পরিবেশেই সে সুন্দর। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর জন্য তা চির সত্য ও বাস্তব। সৌন্দর্য্য বিলাসী শামুখখোল পাখিরাও তাদের বাচ্চাদের নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ঝাঁকে ঝাঁকে বাস করছে এখন। যেন নীড়হারারা পেয়েছে নতুন নীড়ের ঠিকানা। রাজশাহীর সৌন্দর্য্য অবলীলায় তারাও স্থান দখল করে নিয়েছে। ভারসাম্যও রক্ষা করছে পরিবেশের।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের গাছপালা তাদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে সেখানেই নিশ্চিন্তে বসবাস করে আসছে পাখিগুলো। শামুখখোল ছাড়াও এখানে রয়েছে নিশিবক, পানকৌড়ি, বাজকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। তাদের সৌন্দর্য্যে রোগী, রোগীর স্বজন, ডাক্তার এমন কি পথচারীদেরও দৃষ্টি কাড়ছে এবং মন জয় করছে পাখি প্রেমীদের।
মেডিকেল ক্যাম্পাস যেন হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে আবাসস্থল। সেখানে এখন শামুকখোলের অভয়ারণ্য। ক্যাম্পাসের সুবিশাল গাছের ডগায় ডগায় দলবদ্ধভাবে এদের বসবাস। বিভিন্ন ধরনের খড়-কুঠো দিয়ে সুনিপুণভাবে গড়েছে তাদের বাসস্থান। যেন অভিজ্ঞ শিল্পের হাতের ছোঁয়ায় তৈরী নীড়।
শামুকখোল মুলত: বড় আকারের জলচর, সারসজাতীয় পাখি। পৃথিবীতে দুই প্রজাতির শামুকখোল রয়েছে। এশীয় শামুকখোল সাদা বর্ণের পাখি, পিঠ ও ডানার অংশ কালো। সাদা-কালো পালকের দৈহিক গঠন যেন সৌন্ধর্য্যরে মাত্রা বাড়িয়েছে কয়েকগুন। ঠোঁট বড় ও পাশ থেকে খানিকটা চাপা। ঠোঁটের নিচের পাটি উপরের দিকে বাঁকানো। ফলে দুই ঠোঁটের মাঝে ফাঁকা জায়গা থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মুখ, থুতনি ও গলায় পালক থাকে না। তাদের সৌন্দর্য্যে দৃষ্টি কাড়ে সকলের। এরা ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থায়ী পাখি।
শামুখখোল পাখিদেরও আচরন অন্যান্য পাখিদের মতই। তাদের বাচ্চাদের আগলে রাখে অতিযত্নে। তাদের স্নেহ-ভালবাসা দিয়ে বড় করে তোলে। তারপর ধীরে ধীরে তাদের উড়াল দেয়া শেখায়। বাচ্চারা উড়াল দেয়া শিখলে তারাও বাসা বাঁধবে অন্য ডালে। তাদের পছন্দের সঙ্গীদের নিয়ে।

নভেম্বর ০৫
০৪:১৭ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

সেলাই মেশিনেই চল্লিশ বছর

সেলাই মেশিনেই চল্লিশ বছর

রোজিনা সুলতানা রোজি : জীবন তো চলবেই জীবনের মতো ! তবে জীবনের মান চলমান রাখতে বিভিন্ন জন বেছে নিচ্ছেন বিচিত্র পেশা। কারন, জীবনের ভার বহন করতে জীবিকা প্রয়োজন সর্বাগ্রে। কেউ ছোটবেলা তো কেউ বড় হয়ে, সবাইকেই কোনো না কোনো পেশার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতেই হয়। যার যার সুবিধা মত তারা

বিস্তারিত




এক নজরে

চাকরি

অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রাজশাহী পাটকলের আট শ্রমিক

অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রাজশাহী পাটকলের আট শ্রমিক

স্টাফ রিপোর্টার : অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ গ্রাচ্যুইটির টাকাসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে আমরণ অনশনের মধ্যে রাজশাহী পাটকলের আটজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরা হলেন, আব্দুল গফুর, জয়নাল আবেদিন, আলতাফুন বেগম, মহসীন কবীর, আসলাম আলী, মোশাররফ হোসেন, মোজাম্মেল হক ও

বিস্তারিত