Daily Sunshine

উত্তরে শীতের আগাম বার্তা: দুর্বাঘাসে শিশির বিন্দু

Share

রোজিনা সুলতানা রোজি : ‘দেখিতে গিয়াছি পর্বত মালা…দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু, দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া…ঘর হইতে শুধু দুই পা ফেলিয়া…একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে গলা মিলিয়ে বলতে হচ্ছে। আসলেই তো ঘরের পাশের ঘাসের ডগায় অথবা ধানের শীষে শিশির বিন্দুটি তেমন করে দেখা হয়ে উঠে না।
কদিন ধরে ভোরবেলা কেবলই শরীরে শিরশিরে অনুভূতি। হেমন্তের শীতল আভা যেন হাত বুলিয়ে দিচ্ছে গায়ে। ঘুঁমচোখে শরীরে হালকা কাঁথামুড়ি না দিলে ঘুমটা যেন পূর্ণতাই পায় না। বাহিরে সাদা মেঘের মত কুয়াশার চাদরে প্রকৃতি নিজেকে ঢেঁকে নিয়ে যেন জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। উত্তরের মৃদু হাওয়ার সঙ্গে যেন ধীর কদমে উঁকি দিচ্ছে শীত।
এরইমধ্যে ভোরের দুর্বাঘাসে শিশির ফোটার আস্তরণ। এবার হেমন্তের শুরু থেকে উত্তরের প্রকৃতিতে জানান দিয়েছে শীতের বার্তা। দ্রুত কমে যাচ্ছে দিনের পরিধি। বেলা বাড়ার পর সূর্যের আলোকরশ্মির তীর্যক ভাবটাও কিছুটা ম্লান। এ অঞ্চলের মধুবৃক্ষ খেজুর গাছে গাছে গাছীদের রস আহরণের দৃশ্যও দৃষ্টি কাড়ছে সকলের।
কার্তিকের ক’দিন টানা বৃষ্টির পর সকাল-সন্ধ্যায় শরীরে শিরশিরে অনুভুতি জানান দিচ্ছে শীত আসছে। আসবেই বা না কেন ? এরই মধ্যে সাদা মেঘের ভেলা ভাসিয়ে শরৎ বিদায় নিয়েছে। হেমন্তের শুরু থেকেই শিশির বিন্দুতে সাদা কাশফুলের রঙও এখন শুভ্রতা হারিয়ে ধূসর প্রায়। শীতের আগমনী বার্তায় হালকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে সকালের সোনা রোদ। বিকেল পাঁচটা না বাজতেই পশ্চিমে ঢলে পড়ছে সূর্য। গোধূলী লগ্ন পেরিয়ে জলদিই নেমে আসছে সন্ধ্যা। ভোরের আলো ফুটতেই স্নিগ্ধ শিশিরে ভেজা সবুজ ঘাস আর ধানের পাতাগুলো নুয়ে পড়ছে বাতাসে।
সাঝ-সকালে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় টের পাওয়া যাচ্ছে, ধীর পায়ে শীত নামছে উত্তরের প্রকৃতিতে। ভোরের আলো ফোটার আগেই প্রকৃতিতে ভর করেছে কুয়াশা। সব মিলিয়ে এখনই এ অঞ্চলে বিরাজ করছে শীত শীত ভাব।
মধ্য কার্তিক পেরিয়ে এবার উত্তরে পদ্মাপাড়ের শহর রাজশাহীতে শীতের আবহ তৈরি হয়েছে অনেকটা এমনই। গরম যাই যাই করতেই ঠিক শীতের প্রভাব। তবে ভোরের কুয়াশাচ্ছন্নতায় পদধ্বনি পাওয়া যাচ্ছে শীতের।
এরই মধ্যে মধুবৃক্ষ থেকে সুমধুর রস বের করে গ্রামের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে গুঁড়ের পাটালি তৈরির উৎসব। গ্রামে গ্রামে এখনই চলছে খেজুরের রসের পিঠা, পায়েস, মুড়ি-মুড়কী ও নানা রকমের মুখরোচক খাবার তৈরি করার ধুম। রসে ভিজা চিতাই পিঠার স্বাদই আলাদা। পাটালি ও দানা গুড়ের সুমিষ্ট গন্ধেই যেন অর্ধ ভোজন। রসনা তৃপ্তিতে এর জুড়ি নেই। রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুঁড়-পাটালির ইতিহাস অনেক প্রাচীন।
মাঠে মাঠে কেবল শুরু হয়েছে আমন ধান কাটার উৎসব। তবে আগাম ধানের গন্ধে সাঝ সকালে কৃষক মাঠে নামছেন কাটার কাজে। উঠানে উঠানে ধানের ম ম গন্ধে ভরে উঠতে শুরু করেছে কৃষকের প্রাণ। শহরের মোড়ে মোড়ে সিদ্ধ ডিম আর ভাপা পিঠার পসরাও সাজিয়ে বসেছেন ক্ষুদ্র ব্যাসায়ীরা।
তবে আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ডিসেম্বরের আগে শীত নয়। অর্থাৎ অগ্রহায়ণ পেরিয়ে পৌষ মাস এলেই নামবে কাঁপানো শীত। আবহাওয়ার কারণেই এবার হেমন্তেই কড়া নাড়ছে শীত। এরইমধ্যে গতি কমে গেছে ঘরের সিলিং ফ্যানের। কংক্রিটের নগরে বন্দি থাকা মানুষগুলোর শরীরে শেষ রাতে উঠেছে কাঁথা। গ্রামের চিত্র আরও সুশোভিত। পাখিদের ডানা ঝাঁপটানো শব্দ আর কিচিরমিচির ডাকে ঘুম ভাঙছে কৃষকের। হালকা কুয়াশা ভেদ করে মাঠে নেমে পড়ছেন কৃষক। গাছিরা কোমরে রশি বেঁধে উঠে পড়ছেন খেজুর গাছে রস আহরণে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা বলেন, নভেম্বর মাসে দেশে হাড় কাঁপানো শীত খুব একটা পড়ে না। এর কারণ হচ্ছে সূর্য যত দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে যাবে, শীতের তীব্রতা ততটাই বাড়তে থাকবে। তাছাড়া দিনের ব্যাপ্তি কমে আসায় সাধারণত ডিসেম্বর মাস থেকেই শীত পড়তে শুরু করে। তখন উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বাতাস বাংলাদেশের দিকে আসায় তাপমাত্রা আরও কমে আসে। তবে উত্তরাঞ্চলে প্রতিবারই একটু আগেই অনুভূত হয় শীতের। সেই রেশই ঘনিয়ে আসছে।

নভেম্বর ০২
০৪:১২ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শিল্পের নান্দনিকতায় মুগ্ধ দর্শনার্থী

শিল্পের নান্দনিকতায়  মুগ্ধ দর্শনার্থী

রোজিনা সুলতানা রোজি : এ যেন এক অন্য সবুজের সমারোহ এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলন মেলা। গাঢ় সবুজের ফাঁকে ফাঁকে শোভা পাচ্ছে লাল, সাদা, গোলাপী, হলুদসহ হরেক রকম ফুল। টবে বসানো আস্ত আস্ত সবুজ গাছের খর্বাকৃতি। বাংলাবট, লাইকড়, তেঁতুল, কামীনি প্রভৃতি সব গাছের সমারোহ। এ যেন শিল্পীর ছোয়ায় একেকটি নান্দনিক বৃক্ষের সমাহার।

বিস্তারিত




এক নজরে

চাকরি

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সানশাইন ডেস্ক: সদ্য কার্যকর হওয়া সরকারি চাকরি আইনের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাতটি ধারা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে স্পিকার ও ছয় সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী

বিস্তারিত