Daily Sunshine

১১৫ কোটি টাকা ব্যাংকঋণ নিয়ে ভারতে এক আগরওয়ালা দম্পতি

Share

রায়হান আলম, নওগাঁ : নওগাঁর এক দম্পত্তি সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড শাখা থেকে প্রায় ১১৫ কোটি টাকা নিয়ে প্রায় ৬ মাস ভারতে চলে যাওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। ব্যাংকের কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে সম্পত্তির মূল্যের চেয়ে তাদের দেড়গুণ টাকা ঋণ দেওয়ায় সমস্ত টাকা নিয়ে ওই দম্পত্তি ভারতে চলে গেছেন এমনটিই মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ব্যাংকের প্রধান অফিস এবং নওগাঁ শাখা একে-অপরকে দেখিয়ে দিয়ে তথ্য নিতে বলছে। তবে কেউ তথ্য দেয় নি। সাউথইস্ট ব্যাংকের নওগাঁ শাখা থেকে ১১৫ কোটি ঋণ নিয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রায় ৫-৬ মাস থেকে ওই দম্পত্তি ঋণের কোন সুদ দেননি বলে গত ৯ অক্টোবর ব্যাংকটির নওগাঁ শাখার প্রধান কামারুজ্জামান নওগাঁ সদর থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন নওগাঁ শহরের লিটন ব্রিজ মোড়ের বাসিন্দা ও বগুড়ার জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপাল আগরওয়ালা (৫৬) এবং তার স্ত্রী মেসার্স শুভ ফিড প্রসেসিংয়ের স্বত্ত্ব¡াধিকারী দীপা আগরওয়ালা (৪৮)।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় অবস্থিত জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপাল আগরওয়াল এবং মেসার্স শুভ ফিড প্রসেসিংয়ের স্বত্বাধিকারী দীপা আগরওয়ালা ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের ঋণ সুবিধার জন্য আবেদন করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের নামে তা মঞ্জুর করে। এরপর গোপাল আগরওয়ালাকে ৮৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী দীপা আগরওয়ালাকে ৩০ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজারসহ মোট ১১৪ কোটি ৯৪ লাখ ২ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
গত প্রায় ছয় মাস থেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আর ঋণের টাকা আদায় করতে পারেন নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন, ওই দম্পতি ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ না করে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এরপর নওগাঁ শাখা অফিস সদর থানায় ঋণ আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না মর্মে একটি সাধারণ ডায়রি দায়ের করেন।
জানা গেছে, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা জগন্নাথনগর এলাকার বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর পাশে ওই দম্পত্তির কোম্পনি ‘জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ’ লিমিটেড। গত ১৫ অক্টোবর ইন্ডাস্ট্রিতে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড নওগাঁ শাখার পক্ষ থেকে সম্পত্তির তফসিল উল্লেখ করে নোটিশ ঝোলানো হয়েছে। তফসিলে উল্লেখ করা হয়েছে, মোট ৪৩৪ শতক জমি (১৩ দশমিক ১৫১ বিঘা)।
মূলগেটটি তালাবদ্ধ থাকলেও পাশে একটি ছোট গেট দিয়ে আসা-যাওয়া করা হচ্ছে। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকের পক্ষ থেকে চারজনসহ মোট ১৪ জন সিকিউরিটিকে রাখা হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির সব কার্যক্রম বন্ধ এবং গুদাম ঘরগুলো ফাঁকা। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তিনজন কর্মচারীকে দেখ ভালের জন্য রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে ৪৫ জন কর্মচারীদের গত দুইমাস থেকে বেতন দেয়া হয়নি।
কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিনমাস থেকে ইন্ডাস্ট্রির সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে এর আগে থেকেই কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে ছাঁটাই করা হয়। যেসব সরঞ্জাম রয়েছে সেগুলোতে মরিচা ধরা শুরু করেছে।
জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ভেতরে পূর্বদিকে প্রায় ১ বিঘা জায়গার ওপর রয়েছে মেসার্স শুভ ফিড প্রসেসিং, যা একটি ‘গুদামঘর’। গুদামঘরটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ও মেঝেতে কয়েকটি পলিথিন পড়ে থাকলেও কোনো সরঞ্জাম নেই। এর স্বত্বাধিকারী দীপা আগরওয়ালাকে ব্যাংক থেকে ৩০ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজার টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। বাস্তবে মেসার্স শুভ ফিড প্রসেসিং থাকলেও এর কোন কার্যক্রম নেই। সেখানে প্রয়োজনে জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ধান রাখার কাজে ব্যবহৃত হতো বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৩ দশমিক ১৫১ বিঘা জমির উপর ওই প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে। সম্পত্তি, স্থ’াপনাসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের বর্তমান মূল্য দাম প্রায় ১শ’ কোটি টাকা হবে। তবে গত কয়েক মাস থেকে ইন্ডাস্ট্রিজটি সচল না থাকায় মরিচাধরাসহ যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীদের অভিযোগ, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যোগসাজশে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নিয়ে ঋণ দেওয়ার সময় ওই সম্পত্তির মূল্যের চেয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় দেড়গুণ বেশি টাকার ঋণ দিয়েছেন।
জেএন ইন্ডাস্ট্রিজের এক কর্মচারী বলেন, এটার জন্য সম্পূর্ণ ব্যাংক দায়ী। ব্যাংক যদি এত টাকা না দিত তাহলে মালিক পেতেন না। গত দুইমাস থেকে আমরা বেতন পাচ্ছি না। পরিবার নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছি। আমার মতো আরও ৪৫ জন কর্মচারী বেতন না পেয়ে কান্নাকাটি করে বাড়ি চলে গেছে। শুভ ফিডের নামে যে (৩০ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজার) টাকা দেয়া হয়েছে তা যুক্তিহীন। কারণ এটি শুধু নামেই, কাজে কিছুই না। এর কোনো কার্যক্রমই নাই।
বিমান কুমার নামে এক কর্মচারী বলেন, গত ১২ বছর থেকে এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। হঠাৎ করে গত তিনমাস আগ থেকে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এরপর থেকে মালিক এখানে আর আসেন না। পরে জানলাম মালিক দেশের বাহিরে চলে গেছেন। ব্যাংকের লোকজন এসে এখন দখল করে নিয়েছে। এ ব্যাপারে ওই দম্পতির সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ওর্য়াল্ড হিন্দু ফেডারেশনের নওগাঁর সমন্বয়ক শঙ্কর রঞ্জন সাহা জানান, ওই দস্পত্তি সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড থেকে একশ’ কোটি টাকারও বেশি টাকা নিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার গুঞ্জন তিনি শুনেছেন। সম্পত্তির দেড়গুণ টাকা ঋণ দিয়েছে ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে। যদি টাকা নিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার সত্য ঘটনা হয় তাহলে এর জন্যে মূলত ব্যাংক কর্তৃপক্ষই দায়ী।
সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড নওগাঁ শাখা প্রধান কামারুজ্জামান এ ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে বা মন্তব্য করতে রাজি হননি। ওই ব্যাংক নওগাঁ ব্যাংক জোনের মধ্যে রয়েছে কিনা এমন তিনি বলেন, ব্যাংকের প্রধান শাখায় মিডিয়া সেল বিভাগে যোগাযোগ করেন। তারা তথ্য দিতে পারবেন। অপর প্রশ্নে তিনি বলেন, উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই থানায় সাধারণ ডায়রি দায়ের করা হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড ঢাকা প্রধান শাখার মিডিয়া সেল বিভাগের সহকারী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শাখায় (নওগাঁ শাখা) বলতে পারবেন। সেখান থেকেই তারা তথ্য সরবরাহ করবেন। তিনিও এর বাইরে কোনো কথা বলতে বা মন্তব্য করতে চাননি।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই দম্পত্তি থেকে ঋণ আদায় করতে পাচ্ছেন না এমনকি তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না এমন তথ্যে থানায় একটি জিডি দায়ের করেছেন। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অক্টোবর ২৪
০৪:০৬ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

জীবিকা যখন কান পরিস্কার

জীবিকা যখন কান পরিস্কার

স্টাফ রিপোর্টার: নগরীতে প্রায় ৪০ বছর ধরে কান পরিস্কার করে যাচ্ছেন চারঘাটের রতন আলী। তার বয়স এখন ৫৬ বছর চলছে। সেই ১৯৮০ সাল থেকে এ পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছেন। রতন আলী চারঘাট উপজেলার খোর্দ্দগোবিন্দপুর চকরপাড়া থেকে প্রায় প্রতিদিনই রাজশাহী নগরীতে আসেন। নগরীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লা অফিস ঘুরে ঘুরে কান পরিস্কার

বিস্তারিত




চাকরি

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সানশাইন ডেস্ক: সদ্য কার্যকর হওয়া সরকারি চাকরি আইনের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাতটি ধারা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে স্পিকার ও ছয় সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী

বিস্তারিত