Daily Sunshine

জয়পুরহাটে ফতুয়াবাজির শিকার ৪ সন্তানের জননী

Share

স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট: আধুনিক সমাজ কাঠামোতে অনেক পরিবর্তন এলেও হিল্লা বিয়ের ফতোয়া থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না জয়পুরহাটের বিভিন্ন গ্রামের সহজ-সরল মানুষ। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদে রাগের মাথায় ‘তালাক’ শব্দ উচ্চারণ করলেই ওই দম্পতির ওপর নেমে আসছে সমাজপতিদের নানা ফতোয়া।
এরপর হিল্লা বিয়েতে রাজি না হলে সমাজচ্যুত হয়ে স্বামী গ্রাম ও ঘর ছাড়া, স্ত্রী মার খেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হচ্ছে তাদের। সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে আক্কেলপুর উপজেলার উত্তর বিষ্ণপুর গ্রামে। গত ২১ অক্টোবর সোমবার থানায় অভিযোগ দিতে আসার কথা শুনে গ্রামের মেম্বার-মাতব্বরদের ছেলে ও লোকজন স্ত্রীকে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের উত্তর বিষ্ণাপুর গ্রামের আব্দুল সাত্তার ও মাহমুদা বেগম চার সন্তানের দম্পতি, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদে রাগের মাথায় স্বামী আব্দুল সাত্তার ‘এই তোকে তালাক দিলাম’ বলে। পরেরদিন স্থানীয়রা ঝগড়ার কথা জিজ্ঞেস করলে তাকে মৌখিক তালাক দেওয়ার কথা স্বামী স্বীকার করে। এরপরই স্থানীয় মেম্বার মোকলেছুর রহমান বাদেশ ও ঐ গ্রামের সমাজপতিরা ঘরোয়া বৈঠক বসে সিদ্ধান্ত নেয়, মাহমুদা তালাক হয়েছে তাকে হিল্লা বিয়ে দিয়ে ৩ মাস ১০ দিন অন্যত্র সংসার করার পর আরো ৩ মাস ১০ দিন পর স্বামী আব্দুল সাত্তারের সাথে বিয়ে করে সংসার করতে পারবে, অন্যথায় সংসার করতে পারবে না।
এ হিল্লা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় স্বামী ঘর ছাড়া এবং ৪ সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী মাহমুদা বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এরপর গত সোমবার বিকেলে মাহমুদা আক্কেলপুর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানার ওসিকে না পেয়ে সন্ধ্যা হওয়ায় পরের দিন অভিযোগ দিবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়।
তারপর সে ভ্যানযোগে বাড়িতে ফেরার পথে বাড়ির সামনে রাস্তায় মেম্বার-মাতব্বরের ছেলে ও লোকজন মাহমুদাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ৯টার দিকে স্থানীয়রা তাকে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। অসুস্থ অবস্থায় মাহমুদা কথা বলতে পারেন না।
বড় মেয়ে সুমনা আক্তার বলেন, গ্রামের মণ্ডল মাতব্বর, মেম্বারদের ফতোয়ার যুগতো আর নেই। তারা ফতোয়া দিয়ে আমার মাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে বলে কিন্তু আমরা তা চাই না। আমার মাকে অন্যায় ভাবে মারা হলো। আমার মাকে যারা মেরেছে তাদের শাস্তি চাই। চতুর্থ শ্রেণীর ছোট মেয়ে জেবা আক্তার বলেন, গ্রামের লোকেরা আমাদের সাহায্য করছে না। আমরা আইনের সাহায্য চাই। এলাকাবাসী আবুল কাশেম বলেন, আইন অনুয়ায়ী এই তালাক হবে না।
তালাকেরও সরকারি বিধি-বিধান, নিয়ম আছে। এ গ্রামের মণ্ডল, মাতব্বর, ফতোয়াবাজরা যেটা করেছে সেটা ভুল। রওশন আরা, রেহেনা বেগমসহ অনেকে বলেন, সরকারি নিয়ম অনুয়ায়ী তালাক হয়নি ‘কিন্তু কি কমো, গাঁয়ের মেম্বার, মণ্ডল, মাতব্বরের চেয়ে হামরা বেশি জানি? তারাইতো হত্তা-কত্তা, অরগে বিরুদ্ধে হামরা কওয়া পারমো না। এর আগেও এরকম হিল্লা বিয়া অনেক হচে, এরাই দিচে।’
তবে অভিযুক্ত স্থানীয় তিলকপুর ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোকলেছুর রহমান বাদেশ বৈঠকে হিল্লা বিয়ের ব্যাপার অস্বীকার করে বলেন, আমি মার ধরের ব্যাপার জানি না। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়।
এদিকে তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম মাহবুব সজল বলেন, হিল্লা বিয়ে যদি কেউ দিতে চায়, সেটি রাষ্ট্রের আইন বিরোধী হবে। মারধরের বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আরাফাত হোসেন মুন বলেন, বর্তমান সমাজে হিল্লা বিয়ে দেওয়া বলে কোন বিষয় নেই। গ্রামের মাতব্বররা যদি এ ব্যাপারে কোন ফতোয়া দেওয়ার চেষ্টা করে তবে তা আইন পরিপন্থী এবং এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
জয়পুরহাট জজ কোর্টের নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এ্যাড. ফিরোজা চৌধুরী বলেন, কোন দম্পতিকে হিল্লা বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে ওই দম্পতির উপর অন্যায়-অত্যাচার করা হবে। বর্তমানে হিল্লা বিয়ে আইন পরিপন্থী এবং আমরা নারী সমাজ এটা মানি না।
আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ওবায়েদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জয়পুরহাট পুলিশ সুপার সালাম কবির পিপিএম বলেন, যদি মেরে থাকে অবশ্যই মামলা হবে। আমি ওসিকে জানাচ্ছি, তিনি ব্যবস্থা নিবেন।

অক্টোবর ২৪
০৩:৫৬ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

জীবিকা যখন কান পরিস্কার

জীবিকা যখন কান পরিস্কার

স্টাফ রিপোর্টার: নগরীতে প্রায় ৪০ বছর ধরে কান পরিস্কার করে যাচ্ছেন চারঘাটের রতন আলী। তার বয়স এখন ৫৬ বছর চলছে। সেই ১৯৮০ সাল থেকে এ পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছেন। রতন আলী চারঘাট উপজেলার খোর্দ্দগোবিন্দপুর চকরপাড়া থেকে প্রায় প্রতিদিনই রাজশাহী নগরীতে আসেন। নগরীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লা অফিস ঘুরে ঘুরে কান পরিস্কার

বিস্তারিত




চাকরি

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সানশাইন ডেস্ক: সদ্য কার্যকর হওয়া সরকারি চাকরি আইনের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাতটি ধারা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে স্পিকার ও ছয় সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী

বিস্তারিত