Daily Sunshine

বাগমারার খালে অবৈধ বাঁধ কাটতে কৃষকের অভিযান

Share

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারায় বিলের পানি নিষ্কাশনের পথ সরকারী খালে অবৈধ ভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় পানিবদ্ধতায় উড়তি ফসল নষ্ট হওয়ায় গত দুইদিন সোমবার ও মঙ্গলবার অক্লান্ত পরিশ্রম করে অবৈধ বাঁধ গুঁড়িয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী। অবৈধ এসব বাঁধ অপসারণে গ্রামবাসী এখন অভিযানে নেমেছে। গ্রামবাসীর এসব অভিযানে মাছ চাষের সাথে জড়িত প্রভাবশালীদের কিছু ক্যাডার বাহিনী বাঁধের আশে পাশে অবস্থান নিলেও তারা বাঁধ অপসারণ কাজে বাঁধা সৃষ্টির সাহস পায়নি।
স্থানীয় গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগি কৃষক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় এলাকার প্রভাবশালীরা বিগত ৮-৯ বছর ধরে উপজেলার নরদাশ, গোবিন্দপাড়া, শুভডাঙ্গা, আউসপাড়া, বাসুপাড়া মাড়িয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত ১৫-১৬ টি বিলের পানি নামার রাস্তায় সরকারী খাল, দাড়ি ও নালায় বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করে ফায়দা লুটছে। এতে একই খালের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়ে।
বিগত দিনে বর্ষায় পানিবদ্ধতায় এলাকার বিভিন্ন বিলের প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর ফসলী জমির ফসল নষ্ট হয়। এ ধারাবাহিকতায় এবারও বর্ষা মওসুমে ওইসব বিলের পানি বদ্ধতায় গোয়ালপাড়া, অনন্তপাড়া, সূর্য্যপাড়া, পিদ্দপাড়া, কামারবাড়ি, বৈলসিংহসহ কয়েকটি গ্রামের শত শত কৃষকের মওসুমের আধা-পাকা আউস ধান পানিতে নিম্মজ্জিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ভাবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তেমন ব্যবস্থা না হওয়ায় গত দুইদিনে এলাকার কয়েক গ্রামের লোক মাইকিং করে এক জোটে পুর্ববাগমারার সাকোয়াসহ কয়েকটি বিলের পানি নামা রাস্তা করতে কালর্ভাটসহ পুকুরের বাঁধ কেটে দিয়েছে।
এর আগে রবিবার গ্রামবাসীরা ব্রীজের বন্ধ মুখ খুলতে গেলে দীঘির মালিকরা গোয়ালপাড়া গ্রামের নছির উদ্দিনের ছেলে খোকা (৩২) ও কফির উদ্দিনের ছেলে আকরামকে (৩৩) পিটিয়ে আহত করে। আহতদের সেখান থেকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উপজেলার ভবানীগঞ্জ রানী নদী হতে আত্রাই নদী পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার প্রবাহিত একটি খাল অতিতে ছোট নদীর মর্যাদা লাভ করেছিল। আত্রাই নদীর শাখা হিসেবে স্থানীয়রা এর নাম রাখেন তুলসীগঙ্গা নদী।
স্থানীয় প্রভাবশালীরা ওই খালটির প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকার শিকদারী হতে কালিগঞ্জ রাস্তার ওপর নির্মিত ব্রীজ ও বলিদাপাড়া হতে কাঠালবাড়ী রাস্তার ওপর নির্মিত ব্রীজ স্থায়ীভাবে ইট দিয়ে বন্ধ করে দিয়ে মাছ চাষ করছে। খালের পার্শ্ববর্তী আংশিক জমি মালিকদের নামমাত্র মূল্যে ম্যানেজ করে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছে এলাকার জমি মালিক ও ব্রীজের অপর প্রান্তের কৃষকরা।
নদী ও খাল সংরক্ষণ আইনে পানির গতিপথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা ও সরকারী ব্রীজের নীচে প্রাচীর নির্মাণ করে বন্ধ করা আইন পরিপন্থী হওয়া সত্বেও আইনকে তারা বৃদ্ধাংগুলী দেখিয়ে কোটিপতি হবার নেশায় মাছের চাষ করছেন মাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকান, আর্মি বাবু, ফরহাদ হোসেন মজনু, হাজী শাখাওয়াত, মাসুম, সেন্টু, আব্দুর রশিদসহ ১০-১২ জন প্রভাবশালী। তারা সরকারী আইন অমান্য করে মাছ চাষ করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, আগে তুলসীগঙ্গা নদী পথে পেঁয়াজ বোঝাই বড় বড় নৌকা যেত আহসানগঞ্জ হাটে। দখলদারদের কবলে অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে সেই তুলসীগঙ্গা নদী। কাঠালবাড়ি গ্রামের ওমর আলী জানান, এক সময় খালে মাছ ধরে তা বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতাম। কিন্তু এখন পরিবার নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছি। সরকারী আইনে তা উন্মুক্ত থাকার কথা থাকলেও ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থে খালটি বন্ধ করে মাছ চাষের জন্য দখল করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। খাল সংলগ্ন জমি মালিক রহিদুল জানান, খালের পাড়ে জমি থাকা সত্বেও আমাদের মতামত উপেক্ষা করে ব্রীজ বন্ধ করা হয়েছে।
গোয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক মকছেদ আলী, আলতাফ হোসেন, রফিকুল, শমসেরসহ কয়েকজন জানান, বর্তমানে আমাদের এলাকায় সমস্ত পাকাধান পানিতে তলিয়ে গেছে। খালের বাঁধ অপসারনে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাত্র ১০-১২ জন দখলদারিত্বের কারণে প্রায় একহাজার কৃষক ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হয়েছে। তাই কৃষকদের সুবিধার্থে বাঁধগুলো অপসারণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান জানান, এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে কয়েকটি বিলের পানি নিস্কাষনের জন্য বাধা সৃষ্টিকারী বাঁধ কেটে দিয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

অক্টোবর ১৬
০৪:০৬ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

তবুও স্বপ্ন দেখেন আকবর

তবুও স্বপ্ন দেখেন আকবর

মাহবুব মোরসেদ : আকবর আলী। বয়স ৪৮ বছর। চার ভাই ও এক বোন। পিতা আব্দুল্লাহ। বাড়ী নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার আই-হাই গ্রামে। বাবা-মা মারা গেছে অনেক আগে। সীমান্তবর্তী এই উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম এটি। কাজের সন্ধানে অনেক বছর আগে অন্য দেশে পাড়ি জমায় অন্য তিন ভাই, মোনতাজ, লতিফ ও বাবু।

বিস্তারিত




এক নজরে

চাকরি

অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রাজশাহী পাটকলের আট শ্রমিক

অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রাজশাহী পাটকলের আট শ্রমিক

স্টাফ রিপোর্টার : অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ গ্রাচ্যুইটির টাকাসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে আমরণ অনশনের মধ্যে রাজশাহী পাটকলের আটজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরা হলেন, আব্দুল গফুর, জয়নাল আবেদিন, আলতাফুন বেগম, মহসীন কবীর, আসলাম আলী, মোশাররফ হোসেন, মোজাম্মেল হক ও

বিস্তারিত