Daily Sunshine

রাজশাহীতে বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতার দখল বাণিজ্য

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর মতিহার থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি আব্দুস সাত্তার ও তার দুই ছেলে টনি ও ডনির বিরুদ্ধে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজিসহ জুয়া ও মাদক ব্যবসার বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। ভূমি দখলসহ এলাকায় নানা অনিয়মের কারণে এই সাত্তারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও এখনো তিনি প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের উগ্র সমর্থকদের নিয়ে আলাদা অস্ত্রধারী বাহিনী পরিচালনা করার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে স্বদলবলে সম্প্রতি এলাকায় দুই যুবককে প্রকাশ্যে গুলিকরে ও কুপিয়ে আহত করারর পর আত্মগোপনে আছে আব্দুস সাত্তারসহ তার দুই ছেলে টনি ও ডনি। এই হামলাস সাত্তার এলাকার চিহ্নিত বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে।
আব্দুস সাত্তারের বাড়ি কাজলা কেডি ক্লাব পার হয়ে সুইটের মোড় এলাকায়। এলাকাবাসীর দেয়া তথ্য মতে, সাত্তার ও তার দুই ছেলে তাদের বাড়ির কাছে পৌনে ছয় কাঠার পৃথক দুইটি প্লট দখল করে রেখেছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। জমি দুটির মালিকেরা চাইলেও ভয়ে জায়গার দখল নিতে পরছেন না।
এছাড়া সাত্তারের বাড়ির পেছনের এক দরিদ্র ও অসুস্থ দিনমজুর শ্রমিক আবুল কাশেমের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে পরিবারটিকে জিম্মি করে রেখেছেন এই সাত্তার। দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে কাশেম এই ভিটায় স্বপরিবারে বসবার করছেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ এভাবে রাস্তা বন্ধের মাধ্যমে তাদের আড়াই কাঠা বসতভিটা সাত্তার হাতিয়ে নিতে চাইছেন।
সুইটের মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত সাত্তারের বাড়িসংলগ্ন মূল রাস্তার ধারে আড়াই কাঠার একটি প্লট দখল করে সেখানে স্বপ্ন কুঠি নামের একটি ক্লাব তৈরি করা হয়েছে। সেখানে রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের ছবিসহ আওয়ামী লীগের ব্যানার টাঙান হয়েছে। আর এই জায়গাটি এখন সাত্তারের দখলে। জমির প্রকৃত মালিক মনিরুল ইসলাম জানান, সাত্তারসহ টনি ও ডনি তার জমির ওপর দখল নিয়ে রেখেছে। বিষটি জানিয়ে গত বছর পুলিশ কমিশানার বরাবর নালিশ করেন। তাছাড়া রাজনীতিবিদদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও এখন পর্যন্ত তিনি নিজের জমির কর্তৃত্ব বুঝে পাননি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে তাকে রাসিক মেয়র এইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সাথে দেখা করতেও দেয়া হয়নি।
আর এই প্লটের ঠিক পেছনে অসুস্থ রংমিন্ত্রি আবুল কাশেমের বাড়ি। জমির দলিলে থাকলেও তাদের চলাচলের জন্য তিন ফিট রাস্তা প্রচির দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে তাদেরকে এখন অন্যের জমির ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যে কোন সময় সেই জমিতে প্রাচীর দেয়া হলে এই পরিবারটির বাড়িতে চলাচলের সমস্ত রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে।
সাত্তারের বাড়ি থেকে প্রায় দুইশ মিটার উত্তরে এগিয়ে রাস্তার পাশে আরো একটি পৌনে চার কাঠার প্লট চোখে পড়বে। যার ওপর নির্মিত একটি বাড়ি রয়েছে। এই জমিটিসহ বাড়িটিও সাত্তারের ছেলে টমি দখল নিয়ে রেখেছে। বাড়িটিতে কটা ও তার বোন পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকে। কটা পেশায় একজন রংমিন্ত্রি। তারা প্রায় দেড় বছর থেকে নিয়মিত টনিকে সেই বাড়ির ভাড়া পরিশোধ করে আসছে। ভাড়াটিয়া কটা বলেন, আমি শুনেছি জায়গাটা বাইরের এক মানুষের। তবে আমাদেরকে টনি ভাই বাড়িতে তুলে দিয়েছেন।
এলাকাবাসী জানায়, এর আগে যে এই বাড়িতে বাড়া ছিলো তাকে মেরেধরে টনি বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। তারা আরো জানায়, সাত্তার পরিবারের দখলে থাকা এই দুইটি জমির মালিক পৃথক দুই ব্যক্তি। তবে সাত্তার বাহিনীর ভয়ে তারা সেই জায়গার দখল নিতে পারছে না ।
এদিকে আব্দুস সাত্তার ও তার ছেলেদের ত্রাশের বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, ১১ অক্টোবর কাজলার নদী তীরবর্তী ফুলতলা এলাকায় সাত্তারের নেতৃত্বে তার দুই সন্তান টনি ও ডনিসহ ১৫ থেকে ২০ জনের অস্ত্রধারী একদল যুবক স্থানীয় দুই নিরস্ত্র যুবক সুজন ও জনিকে গুলি করে ও কুপিয়ে মারাত্ম আহত করে। এসময় আহত যুবকদ্বয় আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাপ দেয়। ঘটনাটি ঘটে প্রকাশ্য দিবালোকে স্থানীয়দের সামনে। আর সাত্তারের সাথে থাকা বাহিনির অধিকাংশ ছিল স্থানীয় জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত কেডার বাহিনী।
স্থানীয়রা আরো জানায়, বালু ব্যবসার নামকরে ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন সময় এই সাত্তার স্থানীয় ২৫ থেকে ৩০ জনের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তবে তবে সরকারের তৎপরতায় অবৈধ ভাবে বালু মহাল চালু করতে না পারলেও, ওই টাকায় নিজ নামে নদীর ধারে জমি ও একটি ড্রেজার কনে সাত্তার। সময় পেরিয়ে গেলেও বালুমহাল চালু না হওয়ায় অর্থলগ্নিকারীরা তার কাছে বহুদিন থেকেই টাকা ফেরত চেয়ে আসছিলো। তবে দলীয় পরিচয়ের সাথে নিজস্ব ক্যাডারবাহিনী থাকার ভয়ে কেও তার বিরুদ্ধাচরণ করতে শাহস পাচ্ছে না।
গত ১১ অক্টোবরের ঘটনা সেই অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করেই। পাওনাদারের একজন জনি সাত্তারের কাছে ৫০ হাজার টাকা পায়। টাকা না পেয়ে জনি অর্থের বদলে সেই ড্রেজার আটকে রাখে। আর সেই ড্রেজার ফিরে পাওয়াকে কেন্দ্র করেই সেদিন সাত্তার অস্ত্রসহ তার বাহিনী নিয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। আর এই ঘটনার পর থেকে সাত্তার ও তার সন্তানেরা রয়েছে আত্মগোপনে। এবিষয়ে মতিহার থানায় মামলা করেছে আক্রমণের শিকার সজন ও জনির পরিবার।
অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে অভিযুক্ত সাত্তার ও তার দুই সন্তান টনি ও ডনির মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
মতিহার থানার ওসি হাফিজুর রহমান অভিযুক্ত সাত্তার ও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলেন, জমি দখলের বিষয়টি আমি থানায় যোগ দারের আগের ঘটনা। তবে ১১ অক্টোবর সাত্তার ও তার ছেলেদের সাথে স্থানীয় দুই যুবকের সংঘর্ষের পর বিষয়গুলো আমার সামনে এসেছে। জমি সাত্তারের ছেলেরা দখলে রেখেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। জমি পুনরুদ্ধারে আমি ইতিমধেই ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছি। খুবশিঘ্রই প্রকৃত জমির মালিকদের ডেকে বিষয়টি সুরাহা করা হবে।

অক্টোবর ১৬
০৪:০৬ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

জীবিকা যখন কান পরিস্কার

জীবিকা যখন কান পরিস্কার

স্টাফ রিপোর্টার: নগরীতে প্রায় ৪০ বছর ধরে কান পরিস্কার করে যাচ্ছেন চারঘাটের রতন আলী। তার বয়স এখন ৫৬ বছর চলছে। সেই ১৯৮০ সাল থেকে এ পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছেন। রতন আলী চারঘাট উপজেলার খোর্দ্দগোবিন্দপুর চকরপাড়া থেকে প্রায় প্রতিদিনই রাজশাহী নগরীতে আসেন। নগরীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লা অফিস ঘুরে ঘুরে কান পরিস্কার

বিস্তারিত




চাকরি

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সানশাইন ডেস্ক: সদ্য কার্যকর হওয়া সরকারি চাকরি আইনের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাতটি ধারা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে স্পিকার ও ছয় সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী

বিস্তারিত