Daily Sunshine

আধারে আলো

Share

রোজিনা সুলতানা রোজি : মনুষ্যত্ব আজ হয়েছে লুপ্ত, গ্রাস করেছে পশুত্ব। চারিদিকে শুধু হতাশা ও বেদনা, নেই মানবতা। পৃথিবী থেকে লোপ পেয়েছে আজ স্নেহ-ভালবাসা, কোমলতা। জেগে উঠেছে হিস্রতা, লালসা। আর তাই তো সমাজ নামের জীবন বইটির প্রতিটি পাতায় পাতায় হত্যা, খুন, ধর্ষণে ভরা। মানুষ নামের অমানুষগুলোর হাত থেকে রক্ষা পায় না বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীও।
এমন এক ঘটনার শিকার হয়ে মা হয়েছেন রাজশাহীর বায়াস্থ অবস্থিত মহিলা ও শিশু কিশোরীদের নিরাপদ আবাসন সেইফ হোমের আশ্রয় পাওয়া এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারী। মানসিক ভারসাম্যহীন নারী মা হয়েছে, বাবা হয়নি কেউ। বিবেকহীন মানুষের লালসায় ফুটফুটে শিশুটি আজ সেইফ হোমে।
সোমবার সকালে রাজশাহীর বায়াস্থ অবস্থিত মহিলা ও শিশু কিশোরীদের নিরাপদ আবাসন সেইফ হোমের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখ আটকে গেলো। সেখানে থাকা এক কর্মচারীর (আয়া) কোলে ফুটফুটে এক নবজাতক। তিনদিন হলো তার জন্মের। জিজ্ঞাসা করতেই ওই আয়া জানালেন নবজাতক শিশুটির মা একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। তার নাম পপি (১৫)। এছাড়া আর কিছুই বলতে পারে না। কোথায় বাড়ি, নিজের বাবা-মা ও পরিবারের কোনো তথ্য দিতে পারে না সে। কিভাবে কার ভুলে তার কোলজুড়ে শিশুটি আসলো তাও জানা নেই তার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, আদালতের মাধ্যমে গত ১৪ আগস্ট তার ঠাঁই হয় সেইফ হোমে। তখন সে গর্ভবতী ছিল। এরপর সেখানেই যত্নের পর গত শনিবার রাতে ফুটফুটে শিশুপুত্রের জন্ম দেয় সে। এখন শিশুপুত্রটি সেইফ হোমের তত্বাবধানেই রয়েছে। প্রসবের পর থেকে নবজাতক ও তার মা দুজনই এখন সুস্থ রয়েছে।
জন্মমাত্রই নাড়ীর বন্ধন কেটে ফেলা হলেও মায়ের সাথে সন্তানের আত্মার বাঁধন ছেঁড়ে না কখনই। সেই বাঁধনের টানেই গভীর নিশীথে শিশু নড়ে উঠলেও মা বুঝে ফেলে তার প্রয়োজন। গর্ভ কালের মতই জন্মের পর নবজাতককে বড় করে তোলার নীবিড় পরিচর্চা কালেও মায়ের অন্তর, আত্মা, মস্তিস্ক থেকে শুরু করে দেহের প্রতিটি লোমকুপ পর্যন্ত ত্রস্ত ও তৎপর থাকে সর্বক্ষণ। মানসিক ভারসাম্যহীন হলে কি হবে। পপিও যে মা। তাই বাচ্চাটিতে কোলেও নিয়েছে সে। কখনো কখনো নিজের সন্তানের চোখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়েও থাকছে দীর্ঘক্ষণ। বুকের দুধও খাওয়াচ্ছেন।
পপিকে দেখা যায় অনেকটা নির্জীব। কথার কোনো উত্তর নেই তার কাছে। কিছু কথা বলার চেষ্টা করলেও তা অস্পষ্ট। বিসন্ন মুখ। অনুরাগে ভরা চোখের চাহনি। কখনো কখনো নবজাতকের দিকেই তার মনোনিবেশ।
সেইফ হোমের উপ তত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাক জানান, জেলার মোহনপুর থানা পুলিশ গত আগস্ট মাসে তাকে উদ্ধার করে। এরপর আদালতের মাধ্যমে ২৪ আগস্ট থেকে সেইফ হোমে ঠাঁই হয় তার। গর্ভবতী হয়েই এখানে আসে সে। এরপর থেকে তার শারীরিক যত্ন নেয়া হয়। অবশেষে সুস্থ্যভাবে নবজাতক জন্ম দেয় সে। তিনি জানান, শুরু থেকেই তার বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তার পরিবারের কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি। তার বিয়ে হয়েছিলো নাকি কারো লালসার শিকার হয়ে মা হলো এটাও জানা নেই। এখন তারসঙ্গে তার নবজাতকও থাকবে সেইফ হোমের তত্বাবধানে।
নবজাতকের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপ তত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাক জানান, আপাতত মায়ের দুধ পান করছে সে। এখানেই বড় হবে। তার বয়স ৪/৫ বছর হলে তার মায়ের অনুমতিতে কোনো বেবীহোম অথবা এতিমখানায় পাঠানো হতে পারে। এছাড়াও কেউ দত্বক নিতে চাইলে আবেদনের পর আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলার মোহনপুর থানার ওসি মোস্তাক আহমেদ জানান, উপজেলার ধুরইল বাজারে হঠাৎ ঘোরাঘুরির সময় এলাকাবাসী খবর দিলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এরপর পুলিশ নানাভাবে তার পরিবারের অনুসন্ধান করেও ব্যর্থ হয়। ফলে থানায় জিডির (জিডি নম্বর ৫৫৫) মাধ্যমে আদালতে অজ্ঞাত হিসেবে চালান করা হয়। পরে আদালতের নিদের্শে তার ঠাঁই হয় বায়া সেইফ হোমে।

অক্টোবর ০১
০৪:১৩ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

আচারেই ভরসা মর্জিনার

আচারেই ভরসা মর্জিনার

রোজিনা সুলতানা রোজি: জীবনের তাগিদেই মানুষকে বেছে নিতে হয় নানা পেশা। এটি একটি চলমান প্রকৃয়া। জীবন-যাপনের জন্য মানুষ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। জীবিকার জন্য নারীরাও করছেন নানা কাজ। পুরুষের পাশাপাশি তারাও সম্পৃক্ত হচ্ছেন বিভিন্ন ব্যবসায়। কেউ বড় পরিসরে তো কেউ ক্ষুদ্র পরিসরে নানা পন্যের পসরা সাজান। বিশেষ করে সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠির

বিস্তারিত




এক নজরে

চাকরি

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সানশাইন ডেস্ক: সদ্য কার্যকর হওয়া সরকারি চাকরি আইনের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাতটি ধারা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে স্পিকার ও ছয় সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী

বিস্তারিত