Daily Sunshine

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি’র ব্যবহার

Share

আধুনিক যান্ত্রিক প্রযুক্তি দেশের কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব এনেছে বদলে দিয়েছে কৃষি ব্যবস্থাকে। বীজতলা থেকে উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে আমূল পরিবর্তন হয়েছে। যা দুই দশক আগে কৃষিতে ছিল স্বপ্ন। মাঠ তৈরিতে গরুর বদলে স্থান করে নিয়েছে ট্রাক্টর মেশিন। হাতে বীজতলা তৈরির আদলে হচ্ছে মেশিনে। পরিবর্তন হয়েছে সেচ পদ্ধতিরও। সনাতন পদ্ধতিতে হাত দিয়ে সেচ উঠে গেছে। জমিতে এখন ব্যবহার হচ্ছে সেচ পাম্প। এসব আধুনিক যন্ত্রাংশের ছোঁয়ায় কৃষি জমির পরিমাণ কমলেও বেড়েছে খাদ্যশস্য উৎপাদন। কার্যত: আধুনিক যন্ত্রাংশের ব্যবহারে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা এসেছে। এখন কম জমিতে চাষাবাদ করে অনেক বেশি ফসল পাওয়া যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম সংযোজনের একটি হচ্ছে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে একই যন্ত্রে গম কাটা-মাড়াই এবং ঝাড়াই করা হচ্ছে। এছাড়াও একই মেশিনে ফসল কাটা, খোসা থেকে দানা আলাদা করা যায়। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনায় কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। ছোট আকৃতির ধানি জমি চাষেও রয়েছে এর ব্যবহার। এছাড়া বীজ বপন, সার প্রয়োগ ও কীটনাশক ছিটানোর জন্যও রয়েছে ব্রডকাস্ট সিডার। নির্দিষ্ট অবস্থানে বীজ বপনের জন্য আছে সিডড্রিল। জমির শক্ত মাটি কর্ষণের জন্য সাব সয়লার, ধান কিংবা অন্যান্য ফসলী বীজ শুকানোর জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রায়ার যন্ত্র। এসব কিছুই দেশের কৃষিতে নতুন দিগন্ত এনে দিয়েছে।
বর্তমানে কৃষি উৎপাদনে খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে এক একর জমির ধান কাটতে কৃষকের খরচ হয় পাঁচ হাজার টাকা। কিন্তু যন্ত্রের মাধ্যমে কাটলে খরচ হবে মাত্র দেড় হাজার টাকা। তাই শ্রম মজুরি বাঁচাতে হলে ধান ও রবিশস্য রোপণ, কাটা ও মাড়াই সবকিছু আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর করা গেলে শিক্ষিত মানুষও কৃষি কাজে এগিয়ে আসবেন। বর্তমানে কৃষি কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে আধুনিক উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতির বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার হচ্ছে। উৎপাদন ক্ষেত্রে উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক ওষুধেরও ব্যবহার বেড়েছে। প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পর্যাপ্ত পানি সেচের ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির প্রয়োগ করা হচ্ছে।
আধুনিক কৃষি শিক্ষার ব্যবস্থা, ভূমি সংরক্ষণ, ভূমি সম্পদ উন্নয়ন, বিজ্ঞানসম্মত ভূমিস্বত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন হচ্ছে। শস্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। এ সমস্ত কিছু আজ দেশের কৃষি ব্যবস্থঅকে আরো সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই আমরা আশা করতে পারি আগামীতে দেশের এক বিরাট শিক্ষিত বেকার যুবকরাও কৃষিকে আয় উপার্জনের প্রধান খাত হিসেবে বেছে নেবে। কৃষি নির্ভর এদেশে এমনটিই হওয়া উচিৎ। আশা করি এ ক্ষেত্রে যে কোন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার আন্তরিক হবে।

এপ্রিল ০৫
০৩:০৯ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

বাবুর্চি থেকে হোটেল মালিক আফজাল

বাবুর্চি থেকে হোটেল  মালিক আফজাল

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: ছিলেন বাবুর্চি এখন হোটেল মালিক। ৯০’ এর দশকে হোটেলের বয় হিসাবে যাত্রা শুরু এই যুবকের। আজ তিনি নিজেই একটি হোটেল পরিচালনা করছে। সুদীর্ঘ এই পেশাদার জীবনে অনেক পেয়েছেন। পেয়েছেন অর্থ, খ্যাতি, সম্মান ও সর্বোপরি সবার ভালোবাসা। এ ছাড়া বাগমারার সকল হোটেল কর্মচারিরা তাকে নেতাও বানিয়েছে। তিনি

বিস্তারিত




এক নজরে

চাকরি

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সানশাইন ডেস্ক: সদ্য কার্যকর হওয়া সরকারি চাকরি আইনের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাতটি ধারা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে স্পিকার ও ছয় সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী

বিস্তারিত