Daily Sunshine

গৌরবগাঁথায় ১৪৭ বছরে রাজশাহী কলেজ

Share

আসাদুজ্জামান নূর: আজ রাজশাহী কলেজের গৌরবময় ১৪৭ বছরপূর্তি হলো। শতাব্দীর পরে অর্ধশতাব্দীর শেষ দিকে এসেও এতটুকুও ম্লান হয়নি এর সৌন্দর্য। দাড়িয়ে রয়েছে স্ব-মহিমায়। বিলিয়ে যাচ্ছে জ্ঞানের আলো। শতাব্দীর পর শতাব্দীর যাত্রায় কলেজটি গর্ভে ধারণ করেছে কত ইতিহাস! জন্ম দিয়েছে শত-শত প্রথিতযশা সন্তানদের। যাদের অবদানে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হয়েছে। আর এই মহাকালের যাত্রায় বার্ধক্যের ছিঁটে-ফোঁটাও এর শরীরে প্রকাশ পায়নি। ১৪৭ বছরে যেন নবযৌবনা হয়েছে, জৌলুস বেড়েছে এই বিদ্যা মন্দিরের। জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে টানা তিনবার করে দেশ সেরার মুকুট অর্জন স্বাক্ষ্য দেয় রাজশাহী কলেজের শ্রেষ্ঠত্বের।
রাজশাহী শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রমত্তা পদ্মার পাশ ঘেঁষে অবস্থিত কলেজটি ঢাকা ও চট্টগ্রাম কলেজের পরে বাংলাদেশের তৃতীয় প্রাচীনতম কলেজ। ১৮৭৩ সালের পহেলা এপ্রিলে মাত্র ৬ জন ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করে কলেজটি। বর্তমানে প্রায় সাতাশ হাজার শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গ ও দেশের শিক্ষাঙ্গনে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে প্রাচীন এই বিদ্যাপিঠ। ১৪৬ বছরের গৌরবময় পথ পাড়ি দিয়ে ১৪৭ বছরে পদার্পন করেছে দেশসেরা এই কলেজটি।
১৪৬ বছরের দীর্ঘ পথ চলায় বিভিন্ন চড়াই উৎরায় পার হয়ে কলেজটি এখনও স্ব-মহিমায় উজ্জ্বল। গতিশীল সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে রাজশাহী কলেজ নিজেকে রাঙ্গিয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়ায়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২৮টি সূচকের ভিত্তিতে তিনবার দেশসেরার মুকুট অর্জন করেছে। এছাড়াও পেয়েছে ডিজিটাল কলেজের খেতাব। শুধু তাই নয়, শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে বারবার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন যেন কলেজটির মৌলিকত্বে পরিণত হয়েছে।
কালের পরিক্রমায় এই কলেজে পদচারণা পড়েছে কৃতি শিক্ষার্থী ও বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের। এই কলেজে শিক্ষা লাভ করেছেন বাংলাদেশের চার জাতীয় নেতার একজন এ এইচ এম কামারুজ্জামান। এছাড়াও এই বিদ্যাপীঠের আলোয় আলোকিত হয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমান, চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটক, শিক্ষানুরাগী মাদার বখশ, সাহিত্যিক অক্ষয় কুমার মৈত্র, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য স্যার যদুনাথ সরকারসহ আরও অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ। দেশ ও দেশের গন্ডি পেরিয়ে তারাও যেমন একেকজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তেমনি রাজশাহী কলেজ যেন দীপ্তমান সূর্য। যার প্রখরতা পরিমাপ দু:সাধ্য।
প্রায় সাতাশ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাসটিতে ২৪ টি বিভাগে স্নাতক সম্মান, স্নাতকোত্তর, ডিগ্রি ও এইচ.এস.সি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করা হয়। বর্তমানে কলেজে ২৬০ জন কর্মঠ শিক্ষক কর্মরত আছেন।
কলেজে পুরাতন স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে যেমন রয়েছে পুরোনো ভবনসমূহ, তেমনি রয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন ভবন। ফুলার ভবন, হাজি মুহাম্মদ মহসীন ভবন, প্রশাসন ভবনের মত ভবনগুলো মনে করিয়ে দেয় আগের দিনের রাজকীয় স্থাপত্যশৈলী। বৃটিশ স্থাপত্যশৈলীর এসব স্থাপনার লাল রঙের সঙ্গে মিল রেখে কলেজের অন্যান্য ভবনও লাল রঙে রাঙানো হয়েছে। কলেজের প্রত্যেকটি ভবনের এমন লাল রঙ তৈরী করেছে কলেজের আরও একটি মৌলিকতা।
আধুনিক প্রযুক্তির যুগে পিছিয়ে নেই রাজশাহী কলেজ। কলেজের নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে স্থাপন করা হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। প্রতিটি বিভাগে চালু করা হয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। শিক্ষকদের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় ল্যাপটপ। প্রতিটি বিভাগে রয়েছে সুদৃশ্য কম্পিউটার ল্যাব। ক্লাসের শিক্ষার্থীদের বহির্বিশ্বের সাথে সর্বদা যোগাযোগ রাখার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা।
ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে ঘরে বসেও কলেজের যাবতীয় বিজ্ঞপ্তি ও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এজন্য রয়েছে কলেজের নিজস্ব ডাইনামিক ওয়েবসাইট। এছাড়াও কলেজের বিভিন্ন সংবাদ ও সংবাদযোগ্য তথ্য প্রচারের জন্য চালু হয়েছে কলেজের নিজস্ব অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘রাজশাহী কলেজ বার্তা’। এছাড়াও রয়েছে কলেজ কতৃক পরিচালিত অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ফেসবুক গ্রুপ। প্রত্যেকটি বিভাগের রয়েছে ফেসবুক পেজ।
কলেজে জ্ঞানার্জনের জন্য রয়েছে সুবিশাল গ্রন্থাগার। যেখানে রয়েছে পুরোনো দিনের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছাড়াও নিত্যনতুন প্রয়োজনীয় বইসমূহ। মুক্ত জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রতিদিনই এখানে ভীড় জমান শিক্ষার্থীরা।
ক্লাসের বাইরে সহ-শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে ৪৩টি সংগঠন। এসকল সহ-সংগঠন শিক্ষার্থীদের মেধা মনন বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মিডিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতা ও জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র- রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি, রোভার স্কাউট, মিরর বিতর্ক ক্লাব, ক্যারিয়ার ক্লাব, সংগীত একাডেমী, নৃত্য চর্চা কেন্দ্র, রক্তদানের প্রতিষ্ঠান বাঁধন, বরেন্দ্র থিয়েটার, অন্বেষণ, বিএনসিসি, ক্যারিয়ার ক্লাব, বিজনেস ক্লাব, এথিক্স ক্লাব, প্রেজেন্টেশান ক্লাবসহ বিভিন্ন বিভাগের স্বতন্ত্র একটি করে ক্লাব।
এছাড়াও শিক্ষার্থীদের শরীর চর্চার জন্যে রয়েছে আধুনিক ব্যায়ামাগার। নামাজের জন্য দ্বিতল মসজিদ। শহরের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ছাত্রাবাস ও ছাত্রী নিবাস। ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা।
কলেজের রয়েছে পাঁচশ’র বেশি কম্পিউটার সংবলিত কম্পিউটার ল্যাব। কম্পিউটার ল্যাবে কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যতালিকার বাইরেও আউটসোর্সিং ও বিভিন্ন প্রোগ্রামিংয়ের প্রশিক্ষন দেওয়া হয়।
কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সৌন্দর্য বর্ধনেও পিছিয়ে নেই কলেজ প্রশাসন। কলেজের গুরুত্বপূর্ন পয়েন্টে নির্মান করা হয়েছে বিভিন্ন চত্ত্বর। লাগানো হয়েছে মৌসুমী ও বাহারি ফুলগাছ। মৌসুমে এসব ফুলের সৌরভ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়ায় সজীবতা। এছাড়াও কলেজের রয়েছে একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীন রাস্তাগুলো নির্মান করা হয়েছে নতুনভাবে। কার্পেটিং করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ন জায়গাগুলোতে।
রাজশাহী কলেজের অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে কলেজের উন্নয়নের শোভাযাত্রা। কলেজের ১৪৭ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান ও উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আল-ফারুক চৌধুরী। এছাড়াও দিবসটি উদযাপনে থাকছে বর্ণাঢ্য র‌্যালি। বেলুন উড়িয়ে ও কেক কেটে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতার উদ্বোধন করা হবে সকাল ১০টায়।

এপ্রিল ০১
০৩:৩৮ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

বাবুর্চি থেকে হোটেল মালিক আফজাল

বাবুর্চি থেকে হোটেল  মালিক আফজাল

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: ছিলেন বাবুর্চি এখন হোটেল মালিক। ৯০’ এর দশকে হোটেলের বয় হিসাবে যাত্রা শুরু এই যুবকের। আজ তিনি নিজেই একটি হোটেল পরিচালনা করছে। সুদীর্ঘ এই পেশাদার জীবনে অনেক পেয়েছেন। পেয়েছেন অর্থ, খ্যাতি, সম্মান ও সর্বোপরি সবার ভালোবাসা। এ ছাড়া বাগমারার সকল হোটেল কর্মচারিরা তাকে নেতাও বানিয়েছে। তিনি

বিস্তারিত




এক নজরে

চাকরি

অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রাজশাহী পাটকলের আট শ্রমিক

অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রাজশাহী পাটকলের আট শ্রমিক

স্টাফ রিপোর্টার : অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ গ্রাচ্যুইটির টাকাসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে আমরণ অনশনের মধ্যে রাজশাহী পাটকলের আটজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরা হলেন, আব্দুল গফুর, জয়নাল আবেদিন, আলতাফুন বেগম, মহসীন কবীর, আসলাম আলী, মোশাররফ হোসেন, মোজাম্মেল হক ও

বিস্তারিত