Daily Sunshine

হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয়ফল গোলাপজাম

Share

স্টাফ রিপোর্টার : একসময় অনেক দেখা যেতো গোলাপজাম ফলটি। দেখতে দৃষ্টিনন্দন ও খেতে সুস্বাদু একটি ফল। এখন আর এই ফল খুব একটা চোখে পড়ে না। সারাদেশেই এটি একটি বিলুপ্তপ্রায় ফল। রাজশাহীর পবা উপজেলার ভালাম গ্রামের আবুল কাশেমের বাড়িতে দেখা মিললো গোলাপজাম ফলের গাছ।
কৃষিবিদরা জানান, বিলুপ্ত প্রায় ফল হল গোলাপজাম। এই ফল পাকলে গোলাপের মতো কিছুটা গন্ধ বের হয়। সম্ভাবত ফলটির নাম রাখা হয়েছে গোলাপজাম। বৃহত্তর সিলেট এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বাড়ির আশেপাশে একসময় প্রচুর দেখা গেলেও এখন সব অঞ্চলেই হারিয়ে যেতে বসেছে। এটির বৈজ্ঞানিক নাম ঝুুুমরঁস লধসনড়ং আর ইংরেজি নাম জড়ংব ধঢ়ঢ়ষব/গধষুধ ধঢ়ঢ়ষব/গধষধনধৎ ঢ়ধষস। নাম থেকেই বোঝা যায় এটি মূলত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার গাছ। গাছ দীর্ঘদিন বাঁচে। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে ফল দান করে। গাছ মাঝারি আকৃতির। গাছ লাগানোর ২ থেকে ৩ বছর পর থেকেই ফল সংগ্রহ করা যায়। গোলাপজাম গাছে মাঘ-ফাল্গুন মাসে ফুল আসে এবং বৈশাখ থেকে শ্রাবণ মাসের মধ্যে ফল পাকে। গোলাপজামের ফুলও খুবই দৃষ্টিনন্দন।
ভালাম গ্রামের আবুল কাশেম জানান, ৪ বছর আগে রাজশাহী মহানগরীর গ্রীণপ্লাজায় বৃক্ষমেলা থেকে চারাটি সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। এরপরে বাড়ির আঙিনায় রোপন করেন। গত বছর থেকে গাছটিতে ফল আসতে শুরু করে। কিন্তু কাঠবিড়ালের অত্যাচার প্রচুর। ফলগুলো পরিপক্ক হওয়ার আগেই খেয়ে নেয়। কৃষিবিদরা জানান, গোলাপজাম কাঁচা অবস্থায় সবুজাভ এবং কিছুটা শক্ত হলেও পাকলে নরম ও সাদাটে হয়। ভেতরে দু’টি বীজ থাকে, যা থেকে বংশ বিস্তার হয়। গোলাপ জামের বীজ থেকে চারা হলেও সব বীজ জীবন্ত থাকে না। ফলে এর চারা উৎপাদন করা অনেক কষ্টকর। টক মিষ্টি স্বাদের এই ফলে প্রচুর ভিটামিন সি ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, ক্যারোটিন এবং ক্যালসিয়াম। একটি গোলাপজামে প্রায় ৪০ কিলো ক্যালরি খাদ্যশক্তি থাকে। পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, বমিভাব দূর করতে এটি কার্যকর। এছাড়া গাছের ছাল ও পাতা ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী।
সুস্থ শরীরে জন্য খাদ্য তালিকায় ফল ব্যবহারের দিকে সবাই এখন সচেতন। দেশি ফলের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ বিদেশি ফল আমদানি করা হয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না উচ্চ মূল্যে কেনা বিদেশি ফল থেকে দেশে ফলেই পুষ্টি থাকে বেশি। গোলাপজাম তেমনি একটি পুষ্টিকর ফল হলেও এটি এখন বন বাদাড় থেকেও হারিয়ে যেতে বসেছে। বাড়ির আঙ্গিনায়ও আর শখ করে এটি কেউ লাগান না। আবার নার্সারিতেও এ ফলের গাছের চারা মিলে খুব কম।
ভালাম গ্রামের আবুল কাশেম জানান, একটি গোলাপজাম গাছে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ফল আসে। তার পরিবারের লোকজন এই ফল খায়। গোলাপজাম দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি ফুলও খুবই দৃষ্টিনন্দন। ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকে। পাকতে শুরু করলে ধবধবে সাদা অথবা সাদাটে হলুদ হয় বা শুধুই হলুদ হয়। কাঁচা ফল খেতে টক হলেও পাকা ফল খুবই মিষ্টি।

মে ৩০
০৪:১৯ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

বাবুর্চি থেকে হোটেল মালিক আফজাল

বাবুর্চি থেকে হোটেল  মালিক আফজাল

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: ছিলেন বাবুর্চি এখন হোটেল মালিক। ৯০’ এর দশকে হোটেলের বয় হিসাবে যাত্রা শুরু এই যুবকের। আজ তিনি নিজেই একটি হোটেল পরিচালনা করছে। সুদীর্ঘ এই পেশাদার জীবনে অনেক পেয়েছেন। পেয়েছেন অর্থ, খ্যাতি, সম্মান ও সর্বোপরি সবার ভালোবাসা। এ ছাড়া বাগমারার সকল হোটেল কর্মচারিরা তাকে নেতাও বানিয়েছে। তিনি

বিস্তারিত




এক নজরে

চাকরি

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সরকারি চাকরি আইনের সাতটি ধারা বাতিল চেয়ে উকিল নোটিস

সানশাইন ডেস্ক: সদ্য কার্যকর হওয়া সরকারি চাকরি আইনের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাতটি ধারা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে স্পিকার ও ছয় সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী

বিস্তারিত